১২% ডিএ ঘোষণা হতে পারে! প্রথম বাজেটে কর্মীদের জন্য কী চমক রাখছে শুভেন্দু সরকার?

Published on:

Published on:

dearness allowance(195)
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সোমবার বিধানসভায় নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। আর বাজেটের আগে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে। অনেকেই জানতে চাইছেন, এবার বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে সরকার কী ঘোষণা করে।

ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

নবান্ন থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসে এখন ডিএ (Dearness Allowance) নিয়েই আলোচনা। সূত্রের খবর, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে একসঙ্গে ৪২ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বাজেটে প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মীদের একাংশের আশা, বাকি ডিএ (Dearness Allowance) ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার রোডম্যাপও জানানো হতে পারে। অনেকের ধারণা, তিন দফায় পুরো বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিতে পারে সরকার। কারণ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করতে হলে ডিএ-র বকেয়া সমস্যা আগে মেটাতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএ (Dearness Allowance) বাবদ রাজ্যের মোট বকেয়া ছিল ৪১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এখনও প্রায় ৩৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

টাকার জোগান কোথা থেকে?

ডিএ (Dearness Allowance) মেটাতে রাজ্যের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এমনও আলোচনা রয়েছে যে, এই খরচ সামলাতে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল তৈরি করা হতে পারে। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করাও সহজ নয়। জিএসটি থেকে রাজ্যের আয় বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তাই হঠাৎ করে আয় অনেকটা বাড়ানো সম্ভব নয়। এছাড়া আবগারি খাতেও রাজস্ব বাড়ানোর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তাই সরকার এখন প্রকল্পে অপচয় কমানো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাত থেকে আয় বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া রাজস্ব আদায়ের দিকে জোর দিতে পারে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও পুরসভার মতো সংস্থাগুলিকেও আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটে বাড়তে পারে বরাদ্দ

সরকারি সূত্রে খবর, এবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন দফতরে কেন্দ্র থেকে কত টাকা আসছে এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হবে, তার বিস্তারিত তথ্য বাজেটে থাকতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৮৪ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। এবার সেই অঙ্ক ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেক ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তার নাম বাদ পড়তে পারে। পাশাপাশি ‘বাংলার বাড়ি’, ‘কৃষকবন্ধু’, ‘বাংলা শস্যবিমা’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং ‘যুবসাথী’-র মতো কয়েকটি রাজ্য প্রকল্পের বদলে কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হয়েছে। এর ফলে ওই খাতে রাজ্যের খরচও কমবে।

dearness allowance(208)

আরও পড়ুনঃ ফুটপাতে হাঁটার অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের, ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী বলল আদালত?

তবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ছাড়া অন্য সামাজিক প্রকল্পে বড়সড় নতুন খরচের সম্ভাবনা আপাতত কম। অন্যদিকে প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা সামলাতে এবং রাজ্যের আয় বাড়াতে পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বেশি জোর দিতে চলেছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের একটি বড় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।