বাংলাহান্ট ডেস্ক: সোনার মতোই মূল্যবান আম সফলভাবে (Success Story) ফলিয়ে অসাধ্য সাধন করে দেখালেন ওড়িশার মলকানগিরি জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক। তমসা গ্রামের কৃষক দেবা পাধিয়ামি সফলভাবে চাষ করেছেন বিখ্যাত ‘মিয়াজাকি’ আম। জাপানের এই বিশেষ জাতের আমকে বিশ্বের অন্যতম দামী ফল হিসেবে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নত মানের মিয়াজাকি আম প্রতি কেজি প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয় বলে জানা যায়। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেবার ছোট্ট বাগানে এখন ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের গ্রামের মানুষজন। অনেকে শুধু এই বিরল আম এক ঝলক দেখার জন্যই দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন।
দেবা পাধিয়ামির অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story):
মিয়াজাকি আমের উৎপত্তি জাপানের মিয়াজাকি প্রিফেকচারে। সেখানকার মানুষ এই আমকে “তাইয়ো নো তামাগো” বা “সূর্যের ডিম” নামেও চেনেন। গাঢ় লালচে-বেগুনি রঙ, অত্যন্ত মিষ্টি স্বাদ এবং মসৃণ গঠনের জন্য এই আম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। সাধারণ বাজারে বিক্রি হওয়া আমের মতো নয়, জাপানে মিয়াজাকি আমকে বিলাসবহুল ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নির্বাচিত কিছু ফল বিশেষ নিলামে অত্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয় এবং প্রায়ই তা উপহার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। সেই বিরল ফলই এবার ভারতের মাটিতে, তাও আবার ওড়িশার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফলভাবে ফলিয়েছেন এক সাধারণ কৃষক। ফলে দেবা পাধিয়ামির এই সাফল্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: কড়াইতে বারবার খাবার লেগে যাচ্ছে? রান্নাঘরের এই টোটকাগুলি হতে পারে দারুণ কার্যকর
জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে এক সমাজকর্মীর কাছ থেকে এই আমের চারা পান দেবা। তারপর থেকেই ধৈর্য ধরে গাছটির পরিচর্যা করতে থাকেন তিনি। ওড়িশার কঠিন আবহাওয়ায় এই বিদেশি ফলের গাছ বাঁচিয়ে রাখা সহজ ছিল না। কিন্তু দীর্ঘদিনের যত্নের পর অবশেষে গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। এখন সেই গাছই এলাকাবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই আগে কখনও এই জাতের আম দেখেননি। ফলে দেবার বাগানে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার ফলগুলোর রং ও আকার দেখে বিস্মিত হচ্ছেন।
তবে এই জনপ্রিয়তাই এখন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের কাছে। দেবা জানিয়েছেন, এত মূল্যবান আম চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি এখন দিনরাত বাগান পাহারা দিচ্ছেন। এমনকি রাতেও গাছের কাছেই ঘুমোচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই আমগুলো খুব মূল্যবান। তাই এখন আমিই বাগান পাহারা দিচ্ছি।” ডালে ঝুলে থাকা পাকা ফলগুলোর দিকে নজর রাখতে হচ্ছে সবসময়। কারণ, এলাকার মানুষজনের মধ্যে এই আম নিয়ে উৎসাহ যেমন বাড়ছে, তেমনই চুরির ভয়ও তাড়া করছে তাঁকে। ফলে একদিকে বিরল সাফল্যের আনন্দ, অন্যদিকে সেই সাফল্য রক্ষা করার উদ্বেগ, দুয়ের মাঝেই দিন কাটছে এই কৃষকের।

আরও পড়ুন: মার্কিন বিদেশসচিবের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর! মোদীকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানালেন রুবিয়ো
যদিও এত দামী ফল ফলাতে সফল (Success Story) হলেও, কীভাবে তা বাজারজাত করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয় দেবার কাছে। ফলের সঠিক দাম নির্ধারণ, প্যাকেজিং, পরিবহণ কিংবা উপযুক্ত ক্রেতা খোঁজার বিষয়ে তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে মিয়াজাকি আমের আকাশছোঁয়া দামের পিছনে রয়েছে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং এবং রপ্তানি মানের সার্টিফিকেশন। সেই পরিকাঠামো ছাড়া ভারতে উৎপাদিত ফল থেকে একই রকম আয় করা কঠিন। তবুও দেবা পাধিয়ামির এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিচর্যা ও সাহস থাকলে ভারতের মাটিতেও আন্তর্জাতিক মানের ফল চাষ সম্ভব। এখন দেখার, এই বিরল আম আদৌ তাঁর জীবন বদলে দিতে পারে কিনা, নাকি এটি শুধুই ওড়িশার এক গ্রামের ব্যতিক্রমী গল্প হয়ে থেকে যাবে।













