বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্য রাজনীতির চাপা উত্তেজনা ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। একের পর এক পরিচিত রাজনৈতিক মুখের কাছে সির্বসংক্রান্ত নোটিস পৌঁছনোর পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্যের (Debangshu Bhattacharya) নাম। নোটিস পাওয়ার পরই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। সরাসরি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেবাংশু।
ক্ষোভে ফেটে পড়লেন দেবাংশু (Debangshu Bhattacharya)
নোটিস হাতে পেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দেবাংশু (Debangshu Bhattacharya)। তাঁর অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে তৃণমূল সমর্থকদের প্রোফাইল ট্র্যাক করা হচ্ছে। সেই তথ্য বিজেপির তরফে নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। দেবাংশুর কথায়, এর একমাত্র উদ্দেশ্য তৃণমূল সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।
দেবাংশু (Debangshu Bhattacharya) জানান, তাঁকে আগামী ২৭ জানুয়ারি শুনানিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তিনি একা নন, তাঁর পরিবারের আরও তিনজনও একই নোটিস পেয়েছেন। তাঁর দিদি-সহ মোট চারজনকে ডাকা হয়েছে বলে জানান তিনি। দেবাংশুর দাবি, তাঁদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নামই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। সেই সূত্রে তাঁদের প্রোজেনি ম্যাপিং হয়েছে। এর ফলেই ৫৮ লাখের যে তালিকা তৈরি হয়েছে, সেখানে তাঁদের পরিবারের কারও নাম আসেনি। তাঁর কথায়, “এই অর্থে আমরা পাশ করে গিয়েছি।”
এদিকে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে কমিশনের তরফে। এই বিষয়টি নিয়েও তৃণমূলের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে দেবাংশুর (Debangshu Bhattacharya) দাবি, তাঁদের পরিবারের ক্ষেত্রে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর মা-বাবা, দিদি এবং তাঁর নিজের নামের বানান, বয়স কিংবা জন্মতারিখ, কোনও নথির সঙ্গেই কোনও গরমিল নেই। কোনও নতুন নাম ঢোকানো হয়নি, আবার কোনও নাম বাদও পড়েনি। সব তথ্য সঠিক থাকার পরও কেন নোটিস পাঠানো হল, তা নিয়ে তিনি এখনও নিশ্চিত নন।

আরও পড়ুনঃ বইমেলার আগে নারায়ণ দেবনাথের কমিকসে নিষেধাজ্ঞা! কপিরাইট মামলায় সিলমোহর হাই কোর্টের
এর পরই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও তীব্র সুরে আক্রমণ শানান দেবাংশু (Debangshu Bhattacharya)। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ট্র্যাক করে খুঁজে বের করছে কারা তৃণমূল সমর্থক। শুধু সমর্থকরাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে। দেবাংশুর দাবি, ১০ জন নোটিস পেলে তার মধ্যে অন্তত ৮ জনই তৃণমূল সমর্থক। এআই-এর সাহায্যে এই পুরো প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং সেই তথ্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।












