বাংলাহান্ট ডেস্ক: হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগাম সতর্কবার্তা দেবে একটি ছোট্ট চিপ—এমনই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করল প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (Defence Research and Development Organisation)। দিল্লির মিরান্ডা হাউস কলেজের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় তৈরি এই পোর্টেবল সেন্সরটির নাম ‘BioFET’। মূলত দেশের সেনা জওয়ানদের কথা মাথায় রেখেই এই যন্ত্রের নকশা করা হয়েছে। শরীরের রক্ত সঞ্চালনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন নজরে রেখে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা তৈরি হলে আগেভাগেই সতর্ক করবে এই চিপ। বিশেষ করে হিমালয়ের দুর্গম ও অত্যন্ত শীতল এলাকায় কর্মরত জওয়ানদের জন্য এটি কার্যত জীবনরক্ষাকারী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
জওয়ানদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে DRDO (Defence Research and Development Organisation)-র নতুন পদক্ষেপ
এই গবেষণার প্রধান অধ্যাপক মনিকা তোমারের কথায়, BioFET একই সঙ্গে রক্তের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বায়োমলিক্যুল শনাক্ত করতে সক্ষম। এই বায়োমলিক্যুলগুলির মাত্রা যদি বিপদসীমার ঊর্ধ্বে চলে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই ডিভাইসটি সতর্ক সংকেত দেবে। দেখতে অনেকটা রক্তে শর্করা মাপার যন্ত্রের মতো হলেও প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি অনেক বেশি উন্নত। সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় যে কোনও পরিস্থিতিতেই জওয়ানদের রক্ত পরীক্ষা করে হৃদযন্ত্রের ঝুঁকি নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: HCL-এর হাত ধরেই বিশ্বমঞ্চে ভারত, শিব নাদারের নেতৃত্বে বদলে গেল আইটির ইতিহাস
গবেষকদের দাবি, অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করলে শরীরে রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা বেড়ে যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ঠিক এই জায়গাতেই BioFET-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিপজ্জনক মাত্রায় রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ দেখা দিলেই এই সেন্সর তা শনাক্ত করতে পারবে এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
এই ডিভাইসটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ বছর। অধ্যাপক মনিকা তোমার জানিয়েছেন, প্রথমে তিন বছর ধরে গবেষণার কাজ চলেছে। তার পর ডিআরডিও-র সঙ্গে যৌথভাবে আরও দু’বছর ধরে উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর BioFET-এর চূড়ান্ত রূপ তৈরি হয়। সম্প্রতি ডিভাইসটি ডিআরডিও-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর প্রাথমিক ট্রায়ালও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: আনন্দপুরের মর্মান্তিক আগুনে শোকস্তব্ধ দেশ, মৃত ও আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা মোদীর
গবেষকদের মতে, BioFET শুধু সামরিক চিকিৎসার ক্ষেত্রেই নয়, আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণেও একটি বড় পদক্ষেপ। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় এই ডিভাইসের উৎপাদন খরচ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সব দিক থেকে বিচার করলে, ভারতীয় সামরিক চিকিৎসার ইতিহাসে BioFET এক যুগান্তকারী গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।












