দিল্লির রাজপথে থামবে না বিক্ষোভ! জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে রবিবারেও আন্দোলন

Published on:

Published on:

Delhi Protests demanding the resignation of Gyanesh Kumar will continue
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party)। দিল্লির (Delhi Protest) যন্তর মন্তরে শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি-সহ কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন। তবে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এর মধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছনোর পর সিজেপি-র কয়েক জন শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়। কিন্তু নেতাদের আটক করে আন্দোলন থামানো যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দলটি। বরং তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ নাগরিকদের পথে নেমে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে রবিবারেও দিল্লিতে আন্দোলন (Delhi Protest) জারি থাকবে

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির (Delhi Protest) ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান অবতরণের পর সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দলের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং মুখপাত্র সৌরভ দাসকে আটক করে পুলিশ। যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দিতেই তাঁরা দিল্লিতে এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বিমানের ভিতর থেকে একটি ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের আটক করে পরিস্থিতি আরও কঠোর করে তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, জরুরি অবস্থার সময়েও এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। একই সঙ্গে তিনি জানান, গ্রেফতার হতে হলেও তাঁরা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসবেন না। যদিও পুলিশের তরফে আটকের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: বাবার মৃত্যুর পর রাস্তায় আবর্জনা পরিষ্কার করে পড়িয়েছেন মা! IIT পাশ করে UPSC-তে বাজিমাত ছেলের

নেতাদের আটকের পর সিজেপি-র তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। দলের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যদি নাগরিকদের আটক করা হয়, তা হলে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের উপরেই এসে পড়ে। সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাসও অভিযোগ করেন, শক্তি প্রয়োগ করে একটি সাংবিধানিক আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের আদর্শের কথা তুলে ধরে দলের তরফে তরুণ সমাজ-সহ দেশের সমস্ত নাগরিককে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, নেতৃত্বের উপর চাপ তৈরি হলেও প্রতিবাদের কর্মসূচি থামবে না।

এদিকে, দিল্লিতে ধরপাকড় এবং বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র সভাপতি নেহা বোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বাধা ও ব্যারিকেড তৈরি করে বিক্ষোভে অংশ নিতে ইচ্ছুক মানুষদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে থাকা নাগরিকদের পাশাপাশি রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হওয়া ব্যক্তিরাও এই বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। চলমান আন্দোলনকে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বলে উল্লেখ করে নেহা জানান, প্রতিবাদীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। তবে তাঁর এই অভিযোগগুলির বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

Delhi Protests demanding the resignation of Gyanesh Kumar will continue

আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে টুকরো করতে চান আসিম মুনির! কেন এমন পরিকল্পনা?

সিজেপি এবং কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনের মূল দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং এসআইআর প্রক্রিয়া প্রত্যাহার করতে হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি না মেলা এবং দিল্লিতে পৌঁছনোর পর দলের শীর্ষ নেতাদের আটকের ঘটনা আন্দোলনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সিজেপি-র দাবি, প্রতিবাদের অধিকারকে দমিয়ে রেখে এই আন্দোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই দিল্লির কর্মসূচিতে বাধা এলেও আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি।