বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের ছেলে দেশাল দান চরণের জীবনের সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ বহু তরুণের অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, অদম্য অধ্যবসায় এবং লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার মানসিকতা তাকে দেশের সবচেয়ে কঠিন দুই পরীক্ষা— IIT-JEE এবং UPSC Civil Services Examination— উভয় ক্ষেত্রেই সাফল্য এনে দেয়। সংগ্রামের মধ্যেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার এক বিরল দৃষ্টান্ত গড়েছেন তিনি।
দেশাল দান চরণের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
রাজস্থানের সুমালাই গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম দেশালের। তার বাবা কুশলদান চরণ গ্রামে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে ১০ জনের সংসার সামলাতেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। অর্থাভাবে পরিবারকে বহু কষ্টের মুখোমুখি হতে হলেও কুশলদান কখনও সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করতে দেননি; বরং তাদের শিক্ষার জন্য একাধিক ঋণ নিতেও দ্বিধা করেননি।
আরও পড়ুন: ২০২৮ -এর T20 বিশ্বকাপে খেলার প্রস্তুতি শুরু বৈভব সূর্যবংশীর! মাটন-চিকেন ছেড়ে খাচ্ছেন এই খাবার
পরিবারের জীবনে বড় ধাক্কা আসে যখন দেশালের এক বড় ভাই, যিনি ভারতীয় নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, সাবমেরিন দুর্ঘটনায় মারা যান। তখন দেশাল দশম শ্রেণির ছাত্র। এই ঘটনায় পরিবার ভেঙে পড়লেও তার বাবা সন্তানদের মানসিকভাবে শক্ত থাকার শিক্ষা দেন। ছোটবেলা থেকেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন দেশাল, আর সেই লক্ষ্যই তাকে প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যেতে শক্তি দেয়।
দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করে দেশাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং JEE পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রথম প্রচেষ্টাতেই তিনি ভালো ফল করেন এবং Indian Institute of Technology Jabalpur থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষ করে বেসরকারি চাকরির সুযোগ থাকলেও তিনি প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করেননি। তাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দিল্লিতে চলে যান।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে একী কাণ্ড! বিরিয়ানির বিল থেকেই ৭০,০০০ কোটির জালিয়াতি, পর্দাফাঁস করল AI
অল্প সময় হাতে নিয়েই শুরু হয় তার কঠোর প্রস্তুতি। নিরলস পরিশ্রমের ফল মেলে ২০১৭ সালে, যখন প্রথম প্রচেষ্টাতেই UPSC পরীক্ষায় ৮২তম স্থান অর্জন করে তিনি IAS কর্মকর্তা হন। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক পরিষেবায় জায়গা করে নেওয়া দেশাল দান চরণের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় থাকলে প্রতিকূলতা কখনও স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারে না। ভবিষ্যতে রাজস্থানের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যেতে চান তিনি।













