বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের নামী-দামি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে বিল মিটিয়ে বাড়ি ফিরলেও, সেই বিলের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে বিশাল কর জালিয়াতির (Tax Evasion) চক্র— এমনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে তদন্ত। রুটিন তল্লাশি থেকেই ধরা পড়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির এক বিরাট কারবার, যা দেখে স্তম্ভিত তদন্তকারীরাও। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বহু রেস্তোরাঁ বছরের পর বছর সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিরিয়ানির বিল থেকেই ৭০,০০০ কোটির জালিয়াতির (Tax Evasion) পর্দাফাঁস করল AI
তদন্তে জানা গিয়েছে, গ্রাহকরা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় বিলের সঙ্গে যে GST বা কর দেন, নিয়ম অনুযায়ী সেই অর্থ সরকারের ঘরে জমা দেওয়ার দায়িত্ব রেস্তোরাঁ মালিকদের। কিন্তু আয়কর বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছে, দেশের হাজার হাজার রেস্তোরাঁ, বিক্রির আসল তথ্য গোপন করে কৌশলে কর ফাঁকি দিয়েছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, সব মিলিয়ে এই জালিয়াতির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: বালি পাচার নিয়ে সুকান্তর করা টুইটের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলি বসিরহাটের SP! তুঙ্গে রাজনৈতিক তর্জা
ঘটনার সূত্রপাত গত নভেম্বর মাসে হায়দরাবাদের কয়েকটি নামী রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালানোর সময়। সেখানে একটি বিশেষ বিলিং সফটওয়্যারের ব্যবহার ধরা পড়ে, যার মাধ্যমে সহজেই বিক্রির তথ্য সিস্টেম থেকে মুছে ফেলা যেত। তদন্তে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ওই সফটওয়্যারে প্রায় ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকার বিলিং হয়েছে, যার মধ্যে ১৩,৩১৭ কোটি টাকার তথ্য ‘পোস্ট-বিলিং ডিলিশন’ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে বৃহত্তর তথ্য বিশ্লেষণে ১.৭৭ লক্ষ রেস্তোরাঁ আইডি জড়িত থাকার ইঙ্গিত মেলে।
গোয়েন্দাদের দাবি, জালিয়াতির কৌশল ছিল একাধিক। নগদে দেওয়া বিল সিস্টেম থেকে মুছে ফেলা, কয়েক দিন বা সপ্তাহের বিক্রির রেকর্ড পুরোপুরি গায়েব করা কিংবা তথ্য না মুছেও সরকারের কাছে কম আয় দেখানো— এই সব উপায়েই কর ফাঁকি চলেছে। মানুষের পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক বিল যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় তদন্তে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এবং জেনারেটিভ AI প্রযুক্তি, যা মুহূর্তে অসঙ্গতি শনাক্ত করে দেয়।

আরও পড়ুন: এভাবে করলে বাতিল হবেই আপনার যুবসাথীর অ্যাপ্লিকেশন! গড়বড় হওয়ার আগে আপডেট জানুন
আমেদাবাদে সফটওয়্যার সরবরাহকারী সংস্থার সার্ভার থেকে প্রায় ৬০ টেরাবাইট তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে বেশি কারচুপির প্রমাণ মেলে। কর্নাটক, তেলঙ্গনা ও তামিলনাড়ুতে বিপুল অঙ্কের বিল মুছে ফেলার তথ্য সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই Central Board of Direct Taxes তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে এবং দেশজুড়ে নজরদারি জোরদার হয়েছে। দোষী রেস্তোরাঁ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আর সরকারের বার্তা স্পষ্ট— প্রযুক্তি দিয়ে কর ফাঁকি দিলে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমেই সেই প্রতারণা ধরা হবে।













