বাংলাহান্ট ডেস্ক: এবার উড়ানের সময় যাত্রীদের জন্য আরও কড়া নিয়ম (Flight Rules) আনল ডিজিসিএ। ট্রেন বা বাসে যাতায়াতের সময় অনেকেই মোবাইলের স্পিকার অন করে গান শোনা বা ভিডিও দেখাকে স্বাভাবিক অভ্যাস বলে মনে করেন। সহযাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখার প্রবণতা খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু ইদানীং এই প্রবণতা আকাশপথেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানে উঠেও অনেক যাত্রীকে ইয়ারফোন ছাড়াই উচ্চস্বরে গান বাজাতে বা ভিডিও দেখতে দেখা যাচ্ছে। এতে পাশের আসনের যাত্রীরা চরম বিরক্তির মুখে পড়ছেন এবং উড়ানের শৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
উড়ানের সময় যাত্রীদের জন্য আরও কড়া নিয়ম (Flight Rules) আনল DGCA
এই পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি লোকসভায় প্রশ্ন তোলেন তামিলনাড়ুর নামাক্কালের সাংসদ ভি এস মাথেশ্বরন। তাঁর প্রশ্নের লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মহোল জানান, বিমানে ইয়ারফোন ছাড়া গান শোনার বিরুদ্ধে আলাদা করে নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। তবে এই ধরনের আচরণকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র (DGCA) নির্দেশিকায় একে ‘উপদ্রবমূলক আচরণ’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:Facebook-Instagram-এর পর নিষিদ্ধ হল WhatsApp-ও! বড় সিদ্ধান্ত রাশিয়ার
মন্ত্রী জানান, এয়ারক্রাফট রুলস, ১৯৩৭-এর ২২, ২৩ ও ২৯ নম্বর ধারা এবং সিভিল এভিয়েশন রিকোয়্যারমেন্টস (CAR)-এর সেকশন ৩ অনুযায়ী, কোনও যাত্রীর আচরণে যদি অন্য যাত্রীরা অসুবিধায় পড়েন বা বিমানের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়, তা হলে সেই আচরণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। উচ্চস্বরে গান বাজানো বা ইয়ারফোন ছাড়া ভিডিও দেখাও এই আওতার মধ্যে পড়তে পারে, যদি তা অন্যদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়।
এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে ‘আনরুলি প্যাসেঞ্জার’ বা বিশৃঙ্খল যাত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বিমান সংস্থা কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। ব্ল্যাকলিস্টেড হলে ৩ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত উড়ান নিষিদ্ধ করা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে আজীবন বিমানে ভ্রমণের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। ফলে সামান্য অসচেতনতার জন্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আরও পড়ুন: শেখানো হবে যুদ্ধবিমান ওড়ানো! এবার ব্রিটিশ পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেবে ভারতীয় বায়ুসেনা
পাশাপাশি, মন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে অনুমতি ছাড়া বিমানে ভিডিও করা বা ভ্লগিং করাও এয়ারক্র্যাফ্ট রুলস, ১৯৩৭-এর ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী নিষিদ্ধ। অর্থাৎ আকাশপথে যাত্রার সময় ব্যক্তিগত বিনোদনের স্বাধীনতারও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। তাই পরবর্তী বার বিমানে উঠলে ইয়ারফোন সঙ্গে রাখা এবং সহযাত্রীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ— নইলে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।












