Facebook-Instagram-এর পর নিষিদ্ধ হল WhatsApp-ও! বড় সিদ্ধান্ত রাশিয়ার

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাশিয়ায় (Russia) সম্পূর্ণভাবে ব্লক হতে চলেছে মেটার মালিকানাধীন মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। দেশটিতে প্রায় ১০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী এই প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘদিনের জল্পনার পর মস্কো এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পথে হাঁটল। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আরও কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবেই পশ্চিমী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির উপর চাপ বাড়াচ্ছে রুশ প্রশাসন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মেটা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও অনলাইন নিরাপত্তার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

রাশিয়ায় (Russia) এবার নিষিদ্ধ করা হল WhatsApp

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ায় নিষিদ্ধ রয়েছে মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। সেগুলি বর্তমানে শুধুমাত্র ভিপিএন ব্যবহার করেই দেখা যায়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো হোয়াটসঅ্যাপও। ফলে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি বড় মাধ্যম কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।

আরও পড়ুন: চিন্তা বাড়ল Zomato-Swiggy-র! এবার ফুড ডেলিভারি সার্ভিস শুরু করছে এই জনপ্রিয় সংস্থা

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মেটা রুশ আইনের সঙ্গে নিজেদের নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, মেটা যদি রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আশ্বাস দেয়, তাহলে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সংস্থাটি যদি অনমনীয় অবস্থান নেয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। মেটার তরফে এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার শর্ত মানার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি রাশিয়া টেলিগ্রামের উপরেও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যদিও টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠা রাশিয়াতেই, তবুও সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ অভিযোগ করেছেন, নাগরিকদের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অ্যাপে ঠেলে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে রুশ প্রশাসন, যেখানে নজরদারি ও রাজনৈতিক সেন্সরশিপের সম্ভাবনা বেশি। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না।

WhatsApp has been banned in Russia.

আরও পড়ুন: AI-র দাপটে দিশেহারা খোদ Google-এর কর্মীরাই! কাদের ছাড়তে হবে চাকরি?

হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোটি কোটি মানুষকে নিরাপদ ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা আসলে পিছিয়ে যাওয়ার সমান এবং এতে নাগরিকদের নিরাপত্তা কমবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতের সীমা ছাড়িয়ে তথ্যের স্বাধীনতার উপর বড় প্রভাব ফেলবে। ব্যবহারকারীরা হয় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বিকল্পে যেতে বাধ্য হবেন, নয়তো ভিপিএন-এর উপর নির্ভর করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর যে কৌশল রাশিয়া নিচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লক তারই আরেকটি বড় উদাহরণ।