বাংলাহান্ট ডেস্ক: খাবার অর্ডারের (Food Delivery) ক্ষেত্রে এতদিন জোমাটো ও সুইগিই ছিল ভরসা। তবে খুব শিগগিরই সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরও এক বড় নাম—ফ্লিপকার্ট। ই-কমার্স বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পর এবার খাবার সরবরাহ খাতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন এই সংস্থা। সংবাদমাধ্যমের খবর, চলতি বছরের মে বা জুন মাসে বেঙ্গালুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুড ডেলিভারি পরিষেবা চালু করতে পারে তারা। পাইলট প্রকল্প সফল হলে বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুতে দেশজুড়ে পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এবার ফুড ডেলিভারি (Food Delivery) সার্ভিস শুরু করছে ফ্লিপকার্ট
ফ্লিপকার্টের অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্থার লক্ষ্য শুধুমাত্র আরেকটি ফুড ডেলিভারি অ্যাপ হওয়া নয়, বরং বাজারে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করা। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই খাতে নিজেদের আলাদা করে তুলতে কী কৌশল নেওয়া হবে, তা নিয়েই চলছে পরিকল্পনা। সূত্রের দাবি, সংস্থা চায় প্রযুক্তি, লজিস্টিক দক্ষতা এবং বিদ্যমান গ্রাহকভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী বিকল্প গড়ে তুলতে।
আরও পড়ুন: অবিশ্বাস্য! চিন সীমান্তের কাছে এবার যা করে দেখাল ভারত, ঘুম উড়ল বাংলাদেশেরও
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কোন মডেলে এগোবে ফ্লিপকার্ট? জানা যাচ্ছে, তারা দুটি পথ বিবেচনা করছে—সরকার-সমর্থিত ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স (ONDC)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব, অথবা সম্পূর্ণ স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। অতীতে ONDC-র মাধ্যমে এই খাতে প্রবেশের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এবার সংস্থা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং ইতিমধ্যেই একটি নিবেদিত দল গঠন করে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
ভারতের ফুড ডেলিভারি বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৫ অর্থবছরে এই খাতের বাজারমূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। বর্তমানে জোমাটো ও সুইগির দাপট থাকলেও র্যাপিডো ও ONDC ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা তৈরি করছে। ফ্লিপকার্টের বিশ্বাস, এখনও শক্তিশালী তৃতীয় খেলোয়াড়ের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ১০ মিনিটের দ্রুত ডেলিভারির বাড়তি চাহিদা এই খাতকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: আর রেহাই নেই শত্রুদের! ১১৪ টি নতুন রাফাল কিনছে ভারত, ফ্রান্সের সঙ্গে ৩.২৫ লক্ষ কোটির চুক্তি
একই সঙ্গে ফ্লিপকার্ট তাদের দ্রুত বাণিজ্য শাখা ‘ফ্লিপকার্ট মিনিটস’-এ বড় বিনিয়োগ করছে। বর্তমানে সংস্থার ৮০০-র বেশি ডার্ক স্টোর রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্লিঙ্কিট ও জেপ্টোর মতো সংস্থার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে ফ্লিপকার্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—মুদিখানা থেকে রান্না করা খাবার, সবকিছুই এক প্ল্যাটফর্মে এনে গ্রাহকদের জন্য ‘সুপার অ্যাপ’ হয়ে উঠতে চায় তারা। সম্ভাব্য আইপিওর আগে এই কৌশল সংস্থার বাজারমূল্য ও ব্র্যান্ড শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












