বিমান পরিষেবার প্রসঙ্গে বড় খবর! পাইলটদের উড়ান-বিধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা DGCA-র

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: এবার দেশের বিমান পরিষেবা আরও উন্নত করার জন্য পাইলটদের উড়ান-বিধিতে সাময়িক ছাড় ঘোষণা করল ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)। মঙ্গলবার অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, মূলত দূরপাল্লার উড়ানের ক্ষেত্রে ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন’ বা এফডিটিএল-এ এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব আসংবা চুবা আও জানান, যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাইলটদের উড়ান-বিধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ডিজিসিএ (DGCA)-র

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরান-এর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। ফলে বিমান সংস্থাগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে উড়ান চালাতে হচ্ছে, যা সময় ও জ্বালানি—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর ফলে পাইলটদের কাজের সময়ও বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আজ রাতেই শেষ হবে একটি সভ্যতা’, রাখঢাক না রেখেই ইরানের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

একই সঙ্গে গত বছরের শেষে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ইন্ডিগো-র পরিষেবা বিপর্যয়ও এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে একাধিক উড়ান বাতিল ও যাত্রী ভোগান্তির ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ে সংস্থাটি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলীধর মোহল জানান, অপরিকল্পিত পরিষেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই এই সংকটের মূল কারণ ছিল। এরপর থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর নজরদারি শুরু করে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দু’জন পাইলট থাকা দূরপাল্লার বিমানে ‘ফ্লাইট টাইম’ ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট বাড়িয়ে ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোট ডিউটি পিরিয়ড ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট বাড়িয়ে ১১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট করা হয়েছে। যদিও পাইলটদের বিশ্রামের নিয়ম আগেই কড়াকড়ি করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

DGCA Issues Important Announcement Regarding Pilots' Flight Regulations

আরও পড়ুন: যেকোনও মুহূর্তে বড় হামলা? ইরানে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্দেশ্যে সর্তকতা জারি দূতাবাসের

তবে নিয়মে শিথিলতা আনলেও নজরদারিতে কোনও ঢিলেমি রাখছে না সরকার। ডিজিসিএ (DGCA) জানিয়েছে, প্রতি ১৫ দিন অন্তর পর্যবেক্ষণ এবং দু’মাস অন্তর সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। পাইলটদের রোস্টার, ব্যাক-আপ ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ—সবকিছুর উপর কড়া নজর রাখা হবে। সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা থেকে শিক্ষা নিয়ে একদিকে যেমন পাইলটদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যাত্রী পরিষেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।