বাংলা হান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ডিসিতে ইজ রায়েল ও লেবাননের (Israel-Lebanon) রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পথ খুলে দেওয়া এবং পরিস্থিতি শান্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।
৩৩ বছর পর সম্পন্ন হল ইজরায়েল-লেবাননের (Israel-Lebanon) মধ্যে সরাসরি আলোচনা
বর্তমানে ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতেই দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইজরায়েল। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও সমাধানের চেষ্টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক সংঘাত প্রশমনের প্রথম ধাপ হতে পারে, যদি তা কার্যকর আলোচনার দিকে এগোয়।
আরও পড়ুন: হরমুজ সঙ্কটের আবহেই ট্রাম্পের সঙ্গে ৪০ মিনিট ফোনে কথা মোদীর! কী নিয়ে হল আলোচনা?
বৈঠকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা, হিজবুল্লাহকে অস্ত্র ত্যাগে রাজি করানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠিত হল। বৈঠকে মার্কো রুবিও ছাড়াও একাধিক কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন, যা এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই আলোচনায় বসার আগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি সংলাপে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি এই বৈঠকে সম্মতি দেন। অনেকেই মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা করতে পারে।

আরও পড়ুন: ইরানের উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত! দিল্লি থেকে তেহরানে গেল ২০,০০০ কেজি ওষুধ
এদিকে বৈঠকের আগে লেবানন সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ইসরায়েলকে (Israel-Lebanon) হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সাময়িক হামলা বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। যদিও বৈরুতে হামলার মাত্রা কিছুটা কমানো হয়েছে, তবুও দক্ষিণ লেবাননের বিন্ট জুবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সংঘাত মূলত হিজবুল্লাহকে ঘিরে, লেবানন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। তাই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুই দেশের মধ্যে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ বলে মনে করা হচ্ছে।












