বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Narendra Modi-Donald Trump) নির্দেশে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ফোনে কথা বলেন, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ সঙ্কটের আবহেই ট্রাম্প-মোদীর (Narendra Modi-Donald Trump) ফোনালাপ
সূত্রের খবর, এই ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিও গোর জানান, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে এবং এই সংলাপ তারই অংশ। যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েলকে সাহায্য! এই ৫ মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ ইরানের
ফোনালাপের পর নিজের এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কথা বলেছেন এবং ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দুই দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, তিনি হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই জলপথের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে আলোচনায়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ একমাসের বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ইরান ও আমেরিকা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠক কোনও স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে হরমুজ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: আর্থিক সঙ্কটে ধুঁকছে ‘কাঙাল’ পাকিস্তান! ঋণ মেটানোর জন্যও পাততে হচ্ছে হাত
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় এই অচলাবস্থা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। ইতিমধ্যেই ভারতের বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় মোদি-ট্রাম্পের (Narendra Modi-Donald Trump) এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












