বাংলাহান্ট ডেস্ক: তীব্র অর্থনৈতিক চাপে জর্জরিত পাকিস্তান (Pakistan) আবারও আন্তর্জাতিক সহায়তার দ্বারস্থ হয়েছে। পুরোনো ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটি নতুন করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধের জন্য ইসলামাবাদ নতুন তহবিলের খোঁজে রয়েছে, যার একটি বড় অংশের কাছে বকেয়া।
আর্থিক সঙ্কটে নাজেহাল অবস্থা পাকিস্তানের (Pakistan):
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি অর্থমন্ত্রীর পাকিস্তান সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। পাকিস্তান সরকার মনে করছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সৌদি আরবের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আরও পড়ুন: নীতীশের ইস্তফার পরেই বিহারে এবার বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী! মসনদে বসবেন সম্রাট চৌধরী
অন্যদিকে, চিন ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্প, বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা CPEC-এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর হয়েছে। তবে এর ফলে পাকিস্তানের ওপর ঋণের চাপও বেড়েছে, কারণ চীনের কাছে দেশটির বকেয়া ঋণের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড বা আইএমএফ পাকিস্তানের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি ত্রাণ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যার কিছু অংশ ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে। যদিও এই সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে তা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আরও পড়ুন: যুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েলকে সাহায্য! এই ৫ মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ ইরানের
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বারবার বিদেশি সহায়তার উপর নির্ভরশীলতা পাকিস্তানের (Pakistan) অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে। একদিকে ঋণের বোঝা বাড়ছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধির গতি তেমন নেই। ফলে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য কাঠামোগত সংস্কার ও স্বনির্ভরতার পথে হাঁটাই এখন ইসলামাবাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।












