বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল আন্তর্জাতিক মহলে। আমেরিকা ও ইজরায়েলকে যুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ তুলে পাঁচটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে ইরান (Iran)। ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরই এই ঘোষণা সামনে আসে। ইরানের দাবি, যুদ্ধ চলাকালীন বাহরিন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার ও জর্ডান শত্রুপক্ষকে সহায়তা করেছে, যার ফলে তাদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আমেরিকাকে যুদ্ধে সাহায্যকারী ৫ মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ ইরানের (Iran):
রাষ্ট্রসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জানান, এই দেশগুলি নিজেদের সেনাঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে। তার ফলে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশগুলির এই ভূমিকার কারণেই ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ বহু গুণ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: নীতীশের ইস্তফার পরেই বিহারে এবার বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী! মসনদে বসবেন সম্রাট চৌধরী
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতির প্রাথমিক হিসেব ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক প্রেসিডেন্ট পেজেসকিয়ানের কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সংঘাতে ইরানের ক্ষতি ২৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী এই ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, শিল্পক্ষেত্রের ক্ষতি এবং রাজস্ব ঘাটতি। প্রথম পর্যায়ে ভেঙে যাওয়া ভবন ও পরিকাঠামোর ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে, এরপর বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও ব্যবসার কারণে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব করা হবে। ইরানের বক্তব্য, এই বিপুল পুনর্গঠন খরচ তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কাছ থেকেই আদায় করতে চায়।

আরও পড়ুন: চাকরি না করে ব্যবসায় মনোযোগ! ৪ বছরেই কোটি কোটি টাকার টার্নওভার, চমকে দেবে সুস্মিতার কাহিনি
এর আগে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমেরিকার কাছে ১০ দফা শর্ত রেখেছিল ইরান (Iran), যার মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিল ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবুও ক্ষতিপূরণ আদায়ের অবস্থান থেকে সরে আসেনি তেহরান। এখন সেই দাবির লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই পাঁচ দেশ, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












