বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাশিয়া ও ইউক্রেনের (Russia-Ukraine) মধ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ থামাতে ফের বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশই একে অপরের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখতে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেই তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির (Volodymyr Zelensky) মন্তব্যে স্পষ্ট, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তিনি অন্তত প্রকাশ্যে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেননি। বরং সংবাদমাধ্যম ‘অক্সিওস’-কে তিনি জানিয়েছেন, এই খবর তাঁর কাছেও নতুন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আদৌ কোনও সমঝোতা হয়েছে কি না, নাকি ট্রাম্পের ঘোষণার পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কূটনৈতিক হিসাব?
রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ‘এনার্জি সিজফায়ার’-এর দাবি ট্রাম্পের (Donald Trump):
গত কয়েকদিন ধরেই রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এও একই কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার ফলে দুই দেশ একে অপরের শক্তিসম্পদে হামলা চালাবে না এবং যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা। সংঘর্ষবিরতি যাতে কেউ লঙ্ঘন না করে, সেই বার্তাও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই ঘোষণার সমর্থনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এসেছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয় (Donald Trump)।
আরও পড়ুন: আদালত চত্বরে নিষিদ্ধ করতে হবে পান, গুটখা, সিগারেট! জেলা জজদের প্রস্তাব কলকাতা হাইকোর্টের
ট্রাম্পের ঘোষণার পর জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ‘অক্সিওস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, খবরটি জেনে তিনি খুশি হয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে রাশিয়া সত্যিই সম্মত হলে ইউক্রেনও একই পথে হাঁটতে প্রস্তুত। জেলেনস্কির কথায়, ট্রাম্প যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এই বিষয়ে সমঝোতা করে থাকেন, তবে যুদ্ধবিরতি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা ইউক্রেনকেও জানানো প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, ইউক্রেন এই ধরনের উদ্যোগ মেনে নিতে প্রস্তুত। অর্থাৎ, সংঘর্ষবিরতির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেও কিয়েভের তরফে চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু এর পরেই তাঁর আরেকটি পোস্টে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ঘোষণার পরেও ইউক্রেনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই অভিযোগ সত্য হলে তা প্রস্তাবিত সংঘর্ষবিরতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। তবে হামলার সময়, লক্ষ্যবস্তু এবং যুদ্ধবিরতির কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট শর্ত সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: গ্রুপ-ডি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়া ভাবনা, পরীক্ষা দিয়ে মিলতে পারে গ্রুপ-সি পদে উন্নতি
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ঘোষণায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ঘিরে সংঘাত কমার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনই স্থায়ী শান্তির আশা করা কঠিন। কারণ, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর, স্পষ্ট ও পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত সমঝোতা এক বিষয় নয়। মস্কো ও কিয়েভের আনুষ্ঠানিক অবস্থান, হামলা বন্ধের সময়সীমা এবং তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর না মিললে পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তন বোঝা যাবে না। ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ কমাতে পারে কি না, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের উপর। আপাতত শান্তির বার্তার পাশাপাশি অনিশ্চয়তাও কাটছে না (Donald Trump)।














