বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফের চর্চার কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ স্মারক এবং মুদ্রায় নিজের নাম ও প্রতিকৃতি ব্যবহারের উদ্যোগের পর এবার আমেরিকার নতুন স্মারক পাসপোর্টেও জায়গা করে নিয়েছে তাঁর ছবি। এই নিয়ে ঘোষণা আগেই করেছিলেন, এবার সেই পাসপোর্টের নকশা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থেকে শুরু করে তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সমর্থকদের একাংশ একে ঐতিহাসিক উদ্যোগ বলে প্রশংসা করলেও, সমালোচকরা অনেকেই এটিকে ব্যক্তিপূজার প্রবণতা বলে তোপও দেগেছেন।
এবার পাসপোর্টেও নিজের ছবি চাপালেন ট্রাম্প (Donald Trump):
এদিন নিজের সোশ্যাল মিডি হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যালে নিজেই এই নতুন পাসপোর্টের নমুনা প্রকাশ করেন ট্রাম্প (Donald Trump)। সেই পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “আমেরিকার নতুন পাসপোর্ট।” ছবিতে দেখা যায়, গম্ভীর মুখে একটি ডেস্কের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি, আর সেই পাসপোর্টে রয়েছে তাঁর স্বাক্ষরও। কভারে দেখা যায় লেখা রয়েছে, “Welcome, but behave respectfully” যার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় “স্বাগত, তবে ভদ্রভাবে থাকুন।” পোস্টে আরও দেখা যায় যে, ট্রাম্পের ছবির পিছনে ব্যবহার করা হয়েছে ১৭৭৬ সালের মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল পাঠ। অন্য একটি পাতায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক চিত্রকর্মের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে “ইউনাইটেড স্টেটস ২৫০”। হোয়াইট হাউস এই বিশেষ সংস্করণকে “প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট” নামে প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: প্রথমবার প্রিলিমসে মাত্র ১ নম্বরের জন্য ব্যর্থ! পরের বছরই UPSC IES-এ ২১ র্যাঙ্ক অর্জন মৃদুপাণির
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ৬ জুলাই থেকেই এই স্মারক পাসপোর্ট বিতরণ শুরু হবে। তবে জানা গিয়েছে, এটি সাধারণ পাসপোর্টের মতো সর্বত্র পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র ওয়াশিংটনে নির্দিষ্ট সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক আবেদনকারীই এই পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। আরও জানানো হয় যে, যতদিন মজুত থাকবে, ততদিনই এই বিশেষ সংস্করণ দেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, এটি মূলত স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি স্মারক উদ্যোগ। যদিও বিরোধীরা এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, একটি জাতীয় স্মারকে বর্তমান প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত প্রতিকৃতি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত?
যদিও নিজের প্রতিকৃতি ব্যবহারের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র পাসপোর্টেই সীমীত নয়, ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিমধ্যেই মার্কিন মুদ্রাতেও তাঁর ছবি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশেষ ২৫০ ডলারের নোট এবং ১ ডলারের একটি স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করা হতে পারে। আর সেখানেই থাকবে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। এর আগে তাঁর নির্দেশে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন, জন এফ কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তাঁর প্রতিকৃতি খচিত ২৪ ক্যারেটের স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি মার্কিন জাতীয় উদ্যানগুলিতে জর্জ ওয়াশিংটনের পাশাপাশি ট্রাম্পের মুখচ্ছবি প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: লাভবান হবেন যাত্রী এবং চালকরা! কলকাতায় চালু হবে ‘ভারত ট্যাক্সি’, ঘোষণা অমিত শাহের
এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের নামেও ‘TrumpRx’-এর মতো নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ট্রাম্প (Donald Trump) সমর্থকদের দাবি, তিনি আমেরিকার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাঁর অবদান স্মরণীয় করে রাখতেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় প্রতীকগুলিকে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নতুন এই স্মারক পাসপোর্ট প্রকাশের পর আমেরিকায় রাজনৈতিক বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।













