বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Incident) FZ1073 বিমানে ককপিটের ভিতরে হামলার ঘটনায় নতুন করে চড়ছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা। দুবাই (Dubai) থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার ঘটনায় ইরানের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও (Donald Trump) জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা শুনেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত তেহরানের জড়িত থাকার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, তদন্তে যদি ইরানের যোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার ফল গুরুতর হতে পারে এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে যোগের সন্দেহে ইরানকে হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump):
ঘটনাটি ঘটে বুধবার FZ1073 বিমানে (Flydubai Incident)। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল বিমানটি। মাঝ আকাশে ককপিটে ওমানের নাগরিক বলে চিহ্নিত কো-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ। হামলার পর বিমানটি আচমকা কয়েক হাজার ফুট নীচে নেমে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিতের তৎপরতা এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা বড় দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
আরও পড়ুন: ‘তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ’, ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে মোদীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা পুতিনের
বিমানটি শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলে না গিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে ১৭০-র বেশি মানুষ ছিলেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারী বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, ওই কো-পাইলট ইসলামপন্থী চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনও যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা কোনও রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।
এই ঘটনার মধ্যেই ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী এবং অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ইতিমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। এর সঙ্গে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও মোতায়েন করা হচ্ছে। নভেম্বরের শেষের দিকে এই বাহিনী ওই অঞ্চলে পৌঁছতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কোন উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ নবান্নে? দিল্লি থেকে গ্রেফতার মহিলা, নেপথ্যের কারণ খুঁজছেন তদন্তকারীরা
সব মিলিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Incident) ককপিট হামলা এখন শুধুমাত্র বিমান নিরাপত্তার বিষয় হয়ে থাকছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিও। এর আগে থেকেই ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা চলছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে ফের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লাইটে হামলার সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র সত্যিই পাওয়া যায় কি না, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তদন্তে কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিললে এই ঘটনাকে ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। আপাতত তদন্তকারীদের নজর হামলাকারীর উদ্দেশ্য, তার সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং পুরো ঘটনার নেপথ্য কারণের দিকে।













