বাংলাহান্ট ডেস্ক : রুই কাতলার মতো রোজকার মাছ হোক বা ইলিশ চিংড়ির মতো দামি মাছ, বাঙালির কাছে প্রিয় সবই। বাঙালির শুভ অনুষ্ঠানে মাছ থাকবেই। প্রচণ্ড গরম হোক বা কনকনে ঠাণ্ডা, মাছ (Fish) ভাত অনেকের কাছেই কমফোর্ট ফুড। তবে বর্ষায় মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে একটু অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। বর্ষাকালে তো বটেই, বর্ষার পরেও জলদূষণ থেকে বর্জ্য, ব্যাকটেরিয়া জমা হতে পারে মাছের শরীরে, যা মানুষের শরীরে বড়সড় ক্ষতি করতে পারে।
বর্ষায় মাছ (Fish) খাওয়া কতটা ক্ষতিকর?
পুষ্টিবিদদের মতে, বর্ষার সময় জলদূষণ বেশি হয়। কারখানা, নর্দমার নোংরা জল, বিভিন্ন দূষিত পদার্থ নদী, খাল, সমুদ্রে মেশে। এই দূষণের ফলে পারদ, সিসা, আর্সেনিকের মতো ধাতু মাছের শরীরে জমা হতে থাকে। সেই মাছ খাওয়া হলে তা মানুষের শরীরে ঢুকে যায় যা দীর্ঘদিন ধরে জমা হতে থাকলে বড়সড় ক্ষতি করে দিতে পারে। বেশি মাত্রায় পারদ জমা হলে তা মস্তিষ্ক, স্নায়ুর উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। সিসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতুর মাত্রা বেশি হলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

কোন মাছ খাওয়া নিরাপদ: বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধ জলাশয়ে ক্ষতিকারক পদার্থের ঘনত্ব বেশি থাকে। পুকুর, দিঘিতে চাষ করা মাছে বর্ষার সময় ধাতব পদার্থ, রাসায়নিক বেশি মেশে। তবে নদীর জল খাল, বিল, সমুদ্রে গিয়ে মেশায় নদীর মাছ তুলনামূলক ভাবে নিরাপদ বর্ষার সময়। পুষ্টিবিদরা পমফ্রেট, পাঙাস, ট্যাংরার মতো গভীর সমুদ্রের মাছ (Fish) এই সময়ের জন্য নিরাপদ। তবে ভোলা, ভেটকি, পাবদা, চিতলের মতো বড় মাছ অন্যান্য ছোট মাছ খায়। ফলে ছোট মাছগুলির শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকারক উপাদান ধীরে ধীরে বড় মাছগুলির শরীরে জমতে থাকে। বড় আকারের শিকারি মাছগুলিতেই এই ঝুঁকি বেশি।
আরও পড়ুন : স্বাস্থ্যের কথা ভেবে লোভ সম্বরণ, এই টেকনিকে ফুলকো লুচিও হবে স্বাস্থ্যকর
বর্ষায় কী করবেন: বড় জলাশয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য ধাতুর প্রভাব কমে যাওয়ায় ঝুঁকি কম। কিন্তু এই ঘটনা যদি পুকুরে ঘটে তবে বিষক্রিয়া বেশি হয়। তাই বর্ষার সময় রুই কাতলার মতো মাছ না খাওয়াই ভালো। তাহলে কি বর্ষায় মাছ খাওয়া বন্ধই করে দিতে হবে? কী জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা?
আরও পড়ুন : স্ত্রী আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হলে খোরপোষের বিষয় বিবেচনা করা উচিত, বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে বাজারে গিয়ে মাছ কেনার সময় কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। মাছের চোখ স্বচ্ছ হতে হবে, ফুলকো লালচে হওয়া জরুরি, গায়ে কোনও রকম অস্বাভাবিক গন্ধ যেন না থাকে। পাশাপাশি বিক্রেতারা কোথা থেকে মাছ আনছেন সেটা জানাও জরুরি।













