বাংলাহান্ট ডেস্ক : রথ টানলে দুগ্গা আসে। রথের রশিতে তো টান পড়েই গিয়েছে। মাসির বাড়ি ঘুরে আবার মন্দিরে ফিরে গিয়েছেন জগন্নাথ। আর এদিকে বাংলায় শুরু হয়ে গিয়েছে উমা বরণের (Durgapuja 2026) তোড়জোড়। কৈলাসে বার্তা পৌঁছেছে, মায়ের যে এবার আসার সময় হয়েছে। আর ঘরের মেয়েকে আপ্যায়ন করতে এবার নতুন সাজে সজ্জিত হতে চলেছে লেক টেরেস দক্ষিণী সংঘ (Lake Terrace Dakshinee Sangha)। বাংলার দুর্গাপুজোয় (Durgapuja 2026) দীর্ঘদিনের শরিক তারা। এবার ৮০ তম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে এই পুজো। আর সেই উপলক্ষে পুরনো দিনের নস্টালজিয়াকে নতুন করে উসকে দিতে কোমর বাঁধছে লেক টেরেস দক্ষিণী সংঘ।
নতুনের মোড়কে পুরাতনের ঐতিহ্যে মায়ের (Durgapuja 2026) আরাধনা
লেক টেরেস দক্ষিণী সংঘের এবারের থিম ভাবনা ‘সেকালেও, একালেও- যুগ যুগ জিও’। প্রাচীন ঐতিহ্যকে নতুন আঙ্গিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এবারের প্রয়াস এই পুজো কমিটির। বাংলার দুর্গাপুজো সুপ্রাচীন। সাবেকি পুজোর পাশাপাশি এখন ক্রমেই দাপট বাড়ছে থিমপুজোর। শিল্পীর ভাবনায় অভাবনীয় সব থিমে সেজে উঠছে মণ্ডপ, মা দুর্গা। কিন্তু সাবেকিয়ানা, পুরনো ঐতিহ্যকে ভুললেই বা চলবে কীকরে? তাই আগেকার নস্টালজিয়াকে আধুনিকতার সঙ্গে মিলিয়ে এক অভিনব রূপ দিতে চলেছে লেক টেরেস দক্ষিণী সংঘ।

মণ্ডপসজ্জায় বিস্মৃত প্রায় কারুকাজ: এবারের পুজো ভাবনা এবং পরিচালনায় রয়েছেন শুভঙ্কর দত্ত। সাবেকি, নস্টালজিয়ার মেলবন্ধন উঠে আসবে মণ্ডপসজ্জায়। অতি পরিচিত অথচ হারিয়ে যেতে বসা কারুকাজ, অলংকরণ ফিরে আসবে এই থিমের মাধ্যমে। মণ্ডপে পা রেখে যাতে এক লহমায় ফেলে আসা দিনগুলিতে ফিরে যেতে পারেন দর্শনার্থীরা, সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে পুজো কমিটি। ‘সেকালেও, একালেও- যুগ যুগ জিও’- এই ভাবনার মূল চারটি স্তম্ভ হল বাঁধন, স্পর্শ, আবহ এবং আবেশ। মণ্ডপে তৈরি করা হচ্ছে এক মায়াবী আবহ, যা দর্শনার্থীদের বাইরের কোলাহল ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিচ্ছিন্ন করে উৎসবের সঙ্গে একাত্ম করে তুলবে।
আরও পড়ুন : প্রসূতি মহিলারা পাবেন ৫ হাজার টাকা! পিএম মাতৃ বন্দনা যোজনার শর্তাবলি ও আবেদন পদ্ধতি জানুন
৮ দশকের দীর্ঘ পথচলা: এবারের প্রতিমা শিল্পী হলেন অরুণ পাল। সাবেকি মাতৃপ্রতিমার (Durgapuja 2026) মধ্যে থিম ভাবনার প্রকাশ ঘটাবেন তিনি। শুভঙ্কর দত্তের কথায়, “৮০ বছরে এক দীর্ঘ পথ চলা… বহু যুগের সাক্ষী এই পুজো, নানা চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দক্ষিণী সংঘ এসে পৌঁছেছে তার পূজাবার্ষিকীর এক বিশেষ অধ্যায়ে। সময়ের সাথে সাথে প্রথা বা নিয়মনীতি বদলায়নি; আজও অমলিন সেই একই মাতৃভাব।”
আরও পড়ুন : নবদ্বীপ যাওয়ার দরকারই নেই, বাড়িতেই বানান জমাট লাল দই, এভাবে আসবে রঙ-স্বাদ
তিনি আরও বলেন, “দর্শনার্থীদের এত পথ পেরিয়ে ঠাকুর দেখার শারীরিক ক্লান্তি যেন এই মণ্ডপের নস্টালজিক আবহ ও আনন্দধারায় দূর হয়ে যায়, তাঁরা যেন এক অনন্য মনোরম পরিবেশ ও অনুভূতির সাক্ষী হতে পারেন—এটাই আমাদের ৮০তম বর্ষের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।” এবার ৮০ তম বর্ষ লেক টেরেস দক্ষিণী সংঘের। পুজোকে সফল করে তুলতে সংগঠনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন সভাপতি পারিতোষ সিনহা, সহ-সভাপতি সুব্রনীল পাল এবং সম্পাদক সঞ্জিত কুমার দাস।













