ইতিহাসের রসিকতা? ভারতকে পরাধীন করা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হয়ে গেল দেউলিয়া

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইংরেজদের শাসনকালে ইতিহাসে এক সময় যে সংস্থার নাম ছিল ক্ষমতা, বাণিজ্য এবং শাসনের প্রতীক, সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিই (East India Company) আজ ফের একবার ইতিহাসের পাতায় অন্য এক কারণে ফিরে এল। এককালে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করা এই সংস্থার ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ধীরে ধীরে ক্ষমতা  খর্ব হতে শুরু করে যা শেষ পর্যন্ত ১৮৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধই হয়ে যায়। ব্রিটিশ শাসনের সূচনায় যার ভূমিকা দাপটের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হত, তার পতন নিয়েও চর্চা কম ছিল না।

দেউলিয়া হয়ে গেল ভারতকে পরাধীন করা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (East India Company)

এরপর সময় বয়ে যায় বেশ খানিকটা। ২০১০ সালে ফের নতুন করে আলোচনায় আসে এই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাম। শোনা যায়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা সংস্থাটিকে অধিগ্রহণ করেন এবং এটিকে বিলাসবহুল ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা শুরু করেন। অনেকেই এই ঘটনাকে প্রতীকী অর্থে ইতিহাসের পালাবদল হিসেবে দেখেছিলেন, যে সংস্থা একসময় ভারতের ওপর শাসন চালিয়েছে, তার দায়িত্বই চলে আসে এক ভারতীয় উদ্যোক্তার হাতে।

আরও পড়ুন: ধর্মীয় কাজেও AI-র এন্ট্রি! পুরোহিতদের মতোই পুজোর দায়িত্ব সামলাবে ‘বুদ্ধারয়েড’

পুনরায় এই কোম্পানি চালুর করতে লন্ডনের অভিজাত এলাকা মেফেয়ার-এ প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি লাক্সারি স্টোর খোলা হয়। যেখানে প্রিমিয়াম চা, চকোলেট, মিষ্টি, মশলা সহ নানারকম উচ্চমানের পণ্য বিক্রি করা হত। ঐতিহ্য ও ব্র্যান্ড-মূল্যকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি বিশেষ জায়গা তৈরি করার লক্ষ্য ছিল সংস্থার।

তবে খুব বেশিদিন এই কোম্পানি সুখের মুখ দেখতে পেল না। দেড় দশক কাটতে না কাটতেই সংস্থার আর্থিক পরিস্থিতি একেবারে তলানিতে চলে যায়। কয়েকদিন আগেই দেখা যায়, কোম্পানির ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়েছে এবং লন্ডনের ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে থাকা শোরুম কার্যত ফাঁকা। একই নামের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি প্রতিষ্ঠানের উপরও বিপুল ঋণের বোঝা জমে যায়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, কয়েক কোটি টাকার ঋণ, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের আর্থিক দায় এবং কর্মীদের বকেয়া বেতনের বোঝা মিলিয়ে পরিস্থিতি খুবই জটিল হয়ে পড়ে।

The East India Company, which conquered India, went bankrupt.

আরও পড়ুন: সাত বছরের প্রেম পর্ব শেষে এক হলেন বিজয়-রশ্মিকা, ভাইরাল ‘বিরোশ’ জুটির বিয়ের ছবি

শেষ পর্যন্ত আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এই আধুনিক রূপ। এক সময় যে নাম ধনসম্পদ ও সাম্রাজ্যের প্রতীক ছিল, আজ সেই নামই উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল আর্থিক ব্যর্থতার। ইতিহাসের পরিহাস যেন এখানেই—যে সংস্থা একদা বাণিজ্যের মাধ্যমে সাম্রাজ্য গড়েছিল, সেই নামেই পুনর্জন্ম নেওয়া প্রতিষ্ঠানও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারল না।