বাংলাহান্ট ডেস্ক: একুশ শতকে দাঁড়িয়ে মানবজীবনে এআই-এর প্রভাব যে কতখানি তা বলাই বাহুল্য। AI-(Artificial Intelligence) এর দ্বারা সম্ভব নয় এমন কাজ খুব কমই হয়তো দেখা যাবে। যত দিন যাচ্ছে এই এআই মানুষকে যেন আরও বেশি চমকে দেবে। শিক্ষা থেকে চাকরি, ধর্ম সবেতেই এখন মানব বুদ্ধিকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত এই। কোভিড পরবর্তী সময় থেকেই ভারতের বহু মন্দিরে চরণামৃত দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এখন অনেক জায়গায় অটোমেটিক ডিসপেন্সিং মেশিনে হাত রাখলেই পাওয়া যাচ্ছে চরণামৃত। ফলে পুরোহিতের সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াই এই ধর্মীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। মূলত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তির সূচনা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—প্রযুক্তি কি ভবিষ্যতে ধর্মীয় ক্ষেত্রেও মানুষের ভূমিকা কমিয়ে দেবে?
এবার ধর্মীয় কাজেও AI (Artificial Intelligence)-র এন্ট্রি!
এই প্রশ্নকে আর জোরালো করে প্রকাশ্যে এল জাপানের এক নতুন ও অনন্য উদ্ভাবন। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য ফিউচার অফ হিউম্যান সোসাইটি’-র প্রফেসর সেইজি কুমাগাই তৈরি করেছেন এআই-চালিত রোবট সন্ন্যাসী। এর আগে তিনি OpenAI-এর ভাষা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘বুদ্ধাবটপ্লাস’ নামে একটি ধর্মীয় চ্যাটবট তৈরি করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই চ্যাটবটকে উন্নত করেই এই হিউম্যানয়েড রোবটের মধ্যে সংযুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: সাত বছরের প্রেম পর্ব শেষে এক হলেন বিজয়-রশ্মিকা, ভাইরাল ‘বিরোশ’ জুটির বিয়ের ছবি
জানা গিয়েছে, ‘বুদ্ধাবটপ্লাস’-কে বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্র, দর্শন এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে পারদর্শী করে তোলা হয়েছে। ফলে এই রোবট একজন মানব সন্ন্যাসীর মতোই ধর্মীয় উপদেশ দিতে পারে, ব্যক্তিগত সমস্যার কথা শুনে মানসিক সান্ত্বনাও দিতে সক্ষম। কুমাগাইয়ের মতে, অনেক মানুষ ব্যক্তিগত সমস্যার কথা অন্য মানুষের কাছে বলতে সংকোচ বোধ করেন, সেখানে রোবটের কাছে তারা সহজে মনের কথা খুলে বলতে পারেন।
মানুষের মতো দেখতে এই রোবটটি হাঁটতে পারে, প্রার্থনার ভঙ্গিতে হাত জোড় করতে পারে এবং শান্ত কণ্ঠেও কথা বলে। সম্প্রতি টোকিওতে সাংবাদিকদের সামনে ‘বুদ্ধারয়েড’ নামে এই রোবট সন্ন্যাসীকে প্রদর্শনও করা হয়। সেখানে সবাইকে চমকে দিয়ে এক সাংবাদিককে মানসিক চাপ কমানোর বিভিন্ন উপায়ও জানায় রোবটটি। শুধু ধর্মোপদেশ নয়, কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদনের ক্ষমতাও রয়েছে এই রোবটের।

আরও পড়ুন: ৪ বার হয়েছেন ব্যর্থ! ২৩ লক্ষের চাকরি ছেড়ে IAS অফিসার হয়ে স্বপ্নপূরণ করলেন কাজল
বর্তমানে জাপানে তরুণ প্রজন্ম ধর্মচর্চার বদলে প্রযুক্তিনির্ভর পেশার দিকে বেশি ঝুঁকছে, যার দরুণ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা দিয়েছে অনেক। এই আবহে এই প্রেক্ষাপটে এআই রোবট সন্ন্যাসী ভবিষ্যতের ঘাটতি পূরণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে এ ধরনের প্রযুক্তি এলে নতুন বিতর্কও তৈরি হতে পারে, কারণ এখানে পুরোহিতের অভাব নেই। তবু জাপানের এই উদ্ভাবন ধর্ম ও প্রযুক্তির সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।












