বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইবোলা সংক্রমণ (Ebola Virus) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোয় দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় হাজার ছুঁইছুঁই। পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এই আবহে বা WHO ইবোলা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক স্তরে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বা পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেছে। আফ্রিকার একাধিক দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে ভারতও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কঙ্গো, উগান্ডা এবং South Sudan-এ যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
আফ্রিকায় বাড়ছে ইবোলার সংক্রমণ (Ebola Virus), ভারতে চালু স্ক্রিনিং:
এই পরিস্থিতিতে সোমবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রক ও একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রতিনিধিরাও। বৈঠকে মূলত দেশের পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি, সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলার কৌশল এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতে প্রবেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইবোলা স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করা হবে। বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং স্থলসীমান্ত— সব জায়গাতেই কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা থেকে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
আরও পড়ুন: হরমুজে ‘টোল’ নয়! দিতে হবে নতুন ফি, কী পরিকল্পনা ইরানের?
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে এখনও পর্যন্ত ইবোলা সংক্রমণের কোনও ঘটনা ধরা পড়েনি। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইবোলা সংক্রমণ চিহ্নিত করা, পরীক্ষা এবং আক্রান্তদের ট্র্যাকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলকে। বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলিকে বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ালে কীভাবে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যেই ইবোলাকে বিশ্বের জন্য আপৎকালীন স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বা PHEIC হিসেবে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আফ্রিকা CDC ইবোলা পরিস্থিতিকে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অফ কন্টিনেন্টাল সিকিউরিটি’ বা PHECS বলে উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, তীব্র দুর্বলতা, রক্তক্ষরণ এবং একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে এই রোগে। অতীতে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগাম সতর্কতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১১৪ টি রাফাল কেনার পরিকল্পনা ভারতের! ৯০ টি তৈরি হবে দেশে, মিলল বড় আপডেট
করোনা মহামারির অভিজ্ঞতার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় অনেক বেশি সতর্ক। ভারতও সেই পথেই এগোতে চাইছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং সীমান্ত পারাপারের কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সবসময়ই থাকে। তাই প্রাথমিক স্তরেই নজরদারি, স্ক্রিনিং এবং দ্রুত শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত দেশে কোনও সংক্রমণ না মিললেও বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ইবোলা (Ebola Virus) আতঙ্কের আবহে ভারত কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ।













