বাংলাহান্ট ডেস্ক: কেরলের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে (Pinarayi Vijayan) ঘিরে। আর্থিক দুর্নীতি ও তছরুপের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে বুধবার সকালে কেরলের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর, সদ্য ক্ষমতাচ্যুত বাম নেতা তথা বর্তমানে বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়নের ভাড়া বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী, প্রশাসনিক কর্তা এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বাড়ি ও অফিসেও হানা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় কেরলের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের (Pinarayi Vijayan) বাড়িতে ইডি তল্লাশি
ইডি সূত্রে খবর, এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৪ সালে। সেই সময় একটি বেসরকারি সংস্থা এবং সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, একাধিক প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপ করা হয়েছে এবং সেই অর্থের একটি অংশ বেআইনি পথে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার কাছে পৌঁছেছে। এরপরই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে বা পিএমএলএ-র আওতায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে ইডি। সেই সময় এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছিল পিনারাই বিজয়নের সরকার। বিরোধী কংগ্রেস এবং বিজেপি তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিল।
আরও পড়ুন: বকরি ইদ উপলক্ষে ব্যাঙ্ক ছুটি কবে? শহরভিত্তিক সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে
এই মামলায় তদন্ত এগোতে থাকতেই সিএমআরএল নামে একটি সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের দাবি ছিল, ইডির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই তদন্তকারী সংস্থার দায়ের করা মামলা বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছিল কেরালা হাই কোর্টে। তবে মঙ্গলবার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরেই বুধবার সকালে সক্রিয় হয়ে ওঠে ইডি। কেরলের অন্তত ১২টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন দুর্নীতি বিরোধী অবস্থানকে আরও জোরদার করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। ইতিমধ্যেই পিনারাই বিজয়নের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা না করে উল্টে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তা এম আর অজিত কুমারের বিরুদ্ধেও তদন্ত বিপথে চালিত করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে নতুন সরকার।
বাম শিবির অবশ্য গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই দাবি করছে। সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, কেরলে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই পরিকল্পিত ভাবে পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) এবং বাম নেতৃত্বকে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। যদিও কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় শিবিরই দাবি করেছে, দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। রাজনৈতিক সংঘাতের মাঝেই এই মামলাকে কেন্দ্র করে কেরলের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

তদন্তকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান থেকে কী কী তথ্য বা নথি উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। তবে ইডি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তাদের হাতে এসেছে। আগামী দিনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও নতুন সমন জারি হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে (Pinarayi Vijayan) ঘিরে দুর্নীতি তদন্ত এখন কেরলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।













