বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের ৪১৩৩টি সরকারি স্কুল (Government school) নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য শিক্ষা দফতর। ছাত্র নেই এমন বিপুল সংখ্যক স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের (Dipak Barman) দাবি, ৪১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের সবকটিই সরকারি স্কুল নয়। প্রকৃতপক্ষে ছাত্রশূন্য সরকারি স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৯০০।
ছাত্রশূন্য সরকারি স্কুল (Government school) নিয়ে কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী ?
একটি সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। জেলাশাসকদের ছাত্রবিহীন স্কুলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছিল। এরপরই ওই সংখ্যা সামনে আসে এবং তা ঘিরে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। বিরোধীদের একাংশের তরফেও অভিযোগ ওঠে, এতগুলি স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। শিক্ষা দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নথিতে তথ্য পূরণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির কারণেই ৪১৩৩-এর হিসেবটি তৈরি হয়েছে। ওই সংখ্যার মধ্যে বেসরকারি স্কুলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে সংখ্যাটিকে রাজ্যের ছাত্রশূন্য সরকারি স্কুলের মোট সংখ্যা হিসেবে দেখানো সঠিক নয়।
জানা যাচ্ছে, প্রায় ৯০০টি সরকারি স্কুলে দীর্ঘ সময় ধরে কোনও পড়ুয়া নেই, সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। বছরের পর বছর ব্যবহার না হওয়া স্কুল ভবনগুলিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে না রেখে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী ভবনগুলির অন্য কোনও ব্যবহার করা সম্ভব কি না, সেটিও পর্যালোচনার অংশ।এই মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তৈরি কমিটিকে।
শিক্ষা সচিবের নির্দেশ পাওয়ার পর জেলাশাসকদের নেতৃত্বে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি স্কুলের অবস্থান, ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো এবং স্থানীয় প্রয়োজন বিচার করে রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হবে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারি অংশীদারির মাধ্যমে অর্থাৎ PPP মডেলে পরিকাঠামো ব্যবহারের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।
তবে সরকার যে কোনও মূল্যে স্কুলের দরজা বন্ধ করে বিকল্প ব্যবহার করতে চাইছে—বিষয়টি এমন নয়। বরং দীর্ঘদিন পড়ুয়াশূন্য হয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফের সচল করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিই আগে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। দীপক বর্মন বলেন, “আপনারা যা বলছেন, সেগুলি সব সরকারি স্কুল নয়। বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল আছে এর মধ্যে। নথিতে যথাযথ ফিল আপ করার হয়নি বলে এরকম একটি তথ্য সামনে এসেছে। আসলে ৯০০ টি স্কুল নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। এগুলি পূর্ব ঘোষিত বন্ধ স্কুল। আমরা এসে তুলে দিচ্ছি না ৬ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ওই স্কুলগুলিতে ছাত্র নেই, শিক্ষকও নেই।”

আরও পড়ুন :রেলে বিপুল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, দ্বাদশ পাশেই মিলবে নন-টেকনিক্যাল চাকরি, ১৬৮৮ পদে হবে নিয়োগ
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নির্দেশিকার উদ্দেশ্য একসঙ্গে হাজার হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া নয়। দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়া ও শিক্ষকহীন হয়ে থাকা পূর্বঘোষিত বন্ধ স্কুলগুলির পরিকাঠামো কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়েই মূলত প্রশাসনিক পর্যালোচনা চলছে। এখন জেলা কমিটির রিপোর্টের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটা নির্ভর করছে। কোনও প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করার সুযোগ রয়েছে কি না, কোথায় ভবন অন্য কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং কোথায় PPP মডেল কার্যকর হতে পারে—সব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।














