বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR) কাজে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে এবার স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কোন ধরনের শংসাপত্র বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে এবং কারা তা ইস্যু করতে পারবেন, সবকিছুই নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরকে।
স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্রই কেবল এসআইআর-এর (SIR) কাজে বৈধ বলে গণ্য
কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টরের দেওয়া স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্রই কেবল এসআইআর-এর (SIR) কাজে বৈধ বলে গণ্য হবে। অন্য কোনও দপ্তর বা জনপ্রতিনিধির দেওয়া শংসাপত্র এই প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য হবে না।
যদিও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) সহ বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকও সাধারণত স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র ইস্যু করে থাকেন, কিন্তু এসআইআর-এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পদাধিকারীদের দেওয়া শংসাপত্রকেই মান্যতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এই শংসাপত্র অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৯৯৯ সালের নির্ধারিত নিয়ম মেনে তৈরি হতে হবে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত যাঁরা বাঙালি নন কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন বিশেষ করে আর্মি, ডিফেন্স বা প্যারামিলিটারি বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
নিয়মে বলা রয়েছে –
- আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মা যদি অন্তত ১৫ বছর টানা পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করে থাকেন,
- পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের নিজের বাড়ি বা জমি থাকলে,
- আবেদনকারী যদি পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করে এখানকার স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে থাকেন,
তাহলেই তিনি স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। কমিশনের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং এসআইআর-এর (SIR) কাজে যুক্ত সমস্ত আধিকারিককে এই বিষয়ে অবহিত করতে হবে। কেন হঠাৎ এই নির্দেশিকা পাঠানো হল তা অবশ্য স্পষ্ট করেনি কমিশন। তবে অনুমান করা হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় শংসাপত্র গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতেই এই পদক্ষেপ।

আরও পড়ুনঃ শুধু নিরামিষ নয়, এবার বন্দে ভারত স্লিপারে মিলবে আমিষও, জানুন পুরো মেনু
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবারই ছিল এসআইআর (SIR) শুনানির শেষ দিন। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্তও বহু জায়গায় শুনানি শেষ হয়নি বলে খবর মিলেছে। ফলে শুনানির সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












