বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নজরদারি আরও কড়া করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোট প্রক্রিয়া যাতে আরও স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এবার প্রায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা পর্যবেক্ষক নিয়োগের ভাবনা চলছে।
ভোটে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)
নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সাধারণত ভোটের সময় তিন ধরনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে থাকে। এর মধ্যে সাধারণ পর্যবেক্ষক গোটা ভোট প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখেন। এছাড়াও থাকেন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং আয়-ব্যয়ের নজরদারির পর্যবেক্ষক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকার উপর নজর রাখেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা কোথায় কত খরচ করছেন, তার হিসাব দেখেন আয়-ব্যয়ের পর্যবেক্ষক। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে এই তিন ধরনের পর্যবেক্ষকের সংখ্যাই বাড়ানো হতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য মোট ১৬০ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। ফলে একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল এক একজন পর্যবেক্ষককে। তবে এবার সেই পদ্ধতিতে বদল আনার চিন্তা করছে কমিশন (Election Commission)। পরিকল্পনা অনুযায়ী অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রেই একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে।
তবে যেসব কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা তুলনামূলক কম, সেখানে একজনের উপর একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বিধানসভা ভোটে রাজ্যে মোট ৩৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে কমিশন (Election Commission) সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কোন পরিস্থিতিতে বুথে পুনর্নির্বাচন হবে? খোলসা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রায়ই হিংসা ও অশান্তির অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালের ভোটেও ভোট চলাকালীন এবং ভোটের পরবর্তী সময়ে একাধিক হিংসার ঘটনা সামনে এসেছিল, যেখানে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবারের ভোটে নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।












