বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় ভোট মানেই অনেক সময় বুথ জ্যাম, ভোট লুঠ বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠে। এবার সেই সব অভিযোগের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কলকাতা সফরে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) জানিয়ে দিলেন, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে বুথে পুনর্নির্বাচন করা হতে পারে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন যে কড়া পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
বাংলায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পদক্ষেপগুলি স্পষ্ট জানালেন জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)
রবিবার রাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে পৌঁছয়। সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। এরপর মঙ্গলবার দিল্লি ফেরার আগে সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলায় সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা বিস্তারিত জানান তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোনও ধরনের অশান্তি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। ভোট যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার প্রতিটি বুথেই থাকবে সিসিটিভি এবং ওয়েব কাস্টিং ব্যবস্থা। শুধু বুথের ভিতরেই নয়, বুথের বাইরেও নজরদারি চালানো হবে। আগেও বুথের ভিতরে সিসিটিভি ছিল, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই ক্যামেরা বিকল করে বা চুইনগাম লাগিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
এই ধরনের ঘটনা মাথায় রেখেই এবার কমিশন কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনও বুথে যদি দেখা যায় সিসিটিভি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকল করা হয়েছে, তাহলে সেই বুথে সঙ্গে সঙ্গেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, বুথের বাইরেও যদি অশান্তি বা অনিয়মের ছবি ধরা পড়ে, সেক্ষেত্রেও কমিশন তা খতিয়ে দেখে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।

আরও পড়ুনঃ সারদা কেলেঙ্কারিতে নতুন মোড়! শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে বড় নির্দেশ হাই কোর্টের, কী বলল আদালত?
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি (Gyanesh Kumar) বারবার বলেন, নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে হয়, তার জন্য কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তারপরও যদি কোথাও সিসিটিভি বন্ধ করে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সেখানে পুনর্নির্বাচনের পথে হাঁটবে কমিশন। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, বাংলায় ভোটের সময় সিসিটিভি বন্ধ করে ছাপ্পা ভোটের যে অভিযোগ বারবার ওঠে, সেই প্রবণতার বিরুদ্ধেই এবার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেল নির্বাচন কমিশন।












