বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার নির্বাচন ঘিরে একাধিক স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও ভয়মুক্ত ভোট।
কী বলল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)?
কলকাতায় বসেই কমিশন (Election Commission) জানিয়ে দিয়েছে, ভোটে কোনও রকম অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে বুথ দখল, জ্যামিং বা ছাপ্পা ভোটের মতো অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে পাঁচটি মূল বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল –
- প্রথমত, পুরো ভোট প্রক্রিয়া হিংসামুক্ত রাখতে হবে।
- দ্বিতীয়ত, কোনওভাবেই ছাপ্পা ভোট চলবে না, স্বচ্ছ ভোটই একমাত্র লক্ষ্য।
- তৃতীয়ত, সোর্স জ্যামিং বা বুথ জ্যামিং একেবারেই সহ্য করা হবে না।
- চতুর্থত, ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
- পঞ্চমত, কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের সময় প্রলোভন দেখানো বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
এদিকে এই পরিস্থিতির মাঝেই কমিশনের (Election Commission) ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি আবারও কমিশনের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, কমিশনের কাজের ধরনে শালীনতা ও সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এমনকি এই বিষয়েই সুপ্রিম কোর্টে যেতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনের যথেষ্ট ধারণা নেই। বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর।
প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই একাধিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে রাজ্যে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই দুর্বল করছে।

আরও পড়ুনঃ ২০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তি, তবু অনিশ্চয়তায় বিচারাধীন ভোটার! কবে বেরোবে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট?
সব মিলিয়ে ভোটের আগে একদিকে যেমন কমিশনের (Election Commission) কড়া অবস্থান, অন্যদিকে তেমনই রাজ্য সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন, এই দ্বৈত পরিস্থিতির মধ্যেই এগোচ্ছে বাংলার নির্বাচন প্রক্রিয়া।












