বাংলা হান্ট ডেস্ক:পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অনেকদিন ধরেই এই সিএএ-আইনের বিরোধিতা করে এসছে এবং আইনটিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি হল এবং জানানো হলো, রাজ্যে গঠিত হচ্ছে এমপাওয়ার্ড কমিটি (Empowered Committee)।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করতে গঠিত এমপাওয়ার্ড কমিটি
সিএএ অনুযায়ী ২০১৪ এর ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা পাকিস্তান বাংলাদেশ আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসছে, সেই নির্যাতিত অমুসলিম শরণার্থী অর্থাৎ হিন্দু শিখ বৌদ্ধ জৈন পারসি ও খ্রিস্টান, এরা এই আইনের আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যে এমপাওয়ার্ড কমিটি গঠনের কথা বলেছে, সেই কমিটি রাজ্যে সিএএ-এর আওতাধীন নাগরিকত্বের আবেদনগুলি খতিয়ে দেখবে এবং অনুমোদন ও বাতিলের সিদ্ধান্তও তারাই নেবে।
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক সেরে এসে সিএএ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ। শোনা যাচ্ছে মতুয়া সম্প্রদায় থেকে অনেকগুলি আবেদন জমা পড়েছে। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে জারি করা নির্দেশে জানানো হয়েছে যে, নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ এর ৬বি ধারা এবং নাগরিকত্ব বিধি ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী এই এমপাওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হলো।
আরও পড়ুন:রাজ্য-কমিশন টানাপড়েনের মাঝেই বড় নির্দেশ, শনিবার হাইকোর্টে সব পক্ষের মেগা মিটিং
এই কমিটির প্রধান হিসেবে থাকবেন ডিরেক্টরেট অফ সেন্সাস অপারেশনস, পশ্চিমবঙ্গের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল। সেই সঙ্গেই কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার এক আধিকারিক, সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের মনোনীত প্রতিনিধি, রাজ্যের ন্যাশনাল ইনফর্মেটিক্স সেন্টারের স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার, পোস্টমাস্টার জেনারেল বা তার মনোনীত সেক্রেটারি স্তরের ডাক বিভাগের আধিকারিক।
আরও পড়ুন:সাবধান! পুরনো ফোন ব্যবহার করলেই খালি হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, জেনে নিন হ্যাকারদের নয়া কৌশল

এছাড়া এই এমপাওয়ার্ড কমিটির বৈঠকে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বা অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের মনোনীত প্রতিনিধি। সিএএ-এর জন্যে ১১ই মার্চ ২০২৪ এ-কাঠামোর ঘোষণা করা হয়েছিল, তা রাজ্য স্তরে কার্যকর করতে এই কমিটি গঠন ছিল অপরিহার্য অঙ্গ। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের দাবি এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সিএএ-র বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ করা হলো। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কোন দলকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই পাখির চোখ এখন সকলের।













