বাংলা হান্ট ডেস্ক : বীরভূমের পাথর ব্যবসাকে ঘিরে বহুদিনের অভিযোগের তদন্তে এবার বড় মোড়। টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal) ওরফে নাজিবউদ্দিনের বেআইনি সাম্রাজ্যের সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ নথি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। ধৃত ম্যানেজারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরিকে ঘিরেই এখন তদন্ত এগোচ্ছে।
টুলু মন্ডলের (Tulu Mondal) আর্থিক লেনদেনের ডায়েরি পুলিশের হাতে
সোমবার টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করে বীরভূম জেলা পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে ওই ডায়েরি। পুলিশ এ নিয়ে মুখ না খুললেও আদালতে শুনানির সময় সরকারি পক্ষের বক্তব্যে ডায়েরির গুরুত্ব স্পষ্ট। আদালতে জানানো হয়, টুলুর ব্যবসার বিভিন্ন আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত লিখে রাখা হত এই নথিতে এবং সেই দায়িত্বে ছিলেন সীতেশ নিজেই।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ডায়েরিতে শুধুমাত্র ব্যবসার আর্থিক হিসাব নয়, বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে কথিত আর্থিক লেনদেনেরও উল্লেখ রয়েছে। ব্যবসার লাভের অংশ কার কার কাছে পৌঁছত, তারও নথিভুক্ত হিসাব সেখানে রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
সীতেশ দীর্ঘদিন ধরে মহম্মদবাজার থানার পাঁচামি এলাকার একটি পাথর ক্রাশারে হিসাবরক্ষকের কাজ করতেন। গত ৩১ জুলাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারীরা টুলু মণ্ডলের কথিত বেআইনি ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির সন্ধান পান। এরপর গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে আরও একাধিক তথ্য ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের একটি পার্কিং গ্রাউন্ডের ভিতরে অভিযান চালিয়ে একটি বিশেষ ছাপার যন্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই যন্ত্র ব্যবহার করে নকল ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) ছাপানো হত এবং সেই নথির মাধ্যমেই কথিত বেআইনি পাথর ব্যবসা পরিচালিত হত। তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে উদ্ধার হওয়া ডায়েরি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মামলার কেস ডায়েরির সঙ্গে ওই নথির একাধিক পাতার জেরক্স কপিও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী মহলের দাবি, সেখানে জেলার বর্তমান ও প্রাক্তন বহু ছোট-বড় প্রশাসনিক আধিকারিকের নাম উল্লেখ রয়েছে। এই মামলার শুনানিতে জেলা পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আদালত চত্বরে তিনি বলেন, “ধৃত মিনার মণ্ডল এবং সদ্য ধৃত সীতেশ প্রামাণিককে জেরা করেই ছাপাখানা ও ডায়েরির সন্ধান মিলেছে। তদন্ত যত এগোবে, তত নতুন নতুন নাম সামনে আসতে পারে।”

এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, ডায়েরিতে উল্লেখ থাকা আর্থিক লেনদেনের প্রতিটি তথ্যের সত্যতা যাচাই করা। উদ্ধার হওয়া নথি, ছাপার যন্ত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে গোটা চক্রের পরিধি কতটা বিস্তৃত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এগোলে আরও নতুন তথ্য এবং নতুন নাম সামনে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারী মহল।
















