বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সোনা পাপ্পুর জমি জালিয়াতি মামলায় ফের বড় পদক্ষেপ নিল ইডি (Enforcement Directorate)। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ, ভবানীপুর থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের কান্দি পর্যন্ত একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যে আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, তার সূত্র ধরেই এই অভিযান চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার পাশাপাশি সেই টাকা প্রভাবশালীদের কাছেও পৌঁছেছিল।
সোনা পাপ্পু মামলায় ইডি (Enforcement Directorate) অভিযান
শুক্রবার ভোর থেকেই কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে ইডি (Enforcement Directorate)। জানা গিয়েছে, মোট আট থেকে দশটি জায়গায় একসঙ্গে অভিযান চলছে। পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ ও ভবানীপুরে পৌঁছে যায় ইডির আলাদা আলাদা টিম। ভবানীপুরের আশু বিশ্বাস রোডে প্রোমোটার অতুল কাঠারিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে অতুল কাঠারিয়ার যোগাযোগ ছিল।
অন্যদিকে, বালিগঞ্জ প্লেসের একটি বিলাসবহুল বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডি (Enforcement Directorate)। এছাড়াও ৪, রয়েড স্ট্রিটের একটি ক্যাফেতেও পৌঁছে যায় তদন্তকারী সংস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিউটাউনের CRPF ক্যাম্প থেকেও অতিরিক্ত জওয়ান ডাকা হয়েছে বলে খবর। কলকাতার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও পৌঁছেছেন ইডি আধিকারিকরা। সেখানে কালীঘাট থানার প্রাক্তন আইসি তথা ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে তল্লাশি চলছে। বর্তমানে জমি সংক্রান্ত মামলায় ইডির হেফাজতেই রয়েছেন তিনি।
তদন্তকারীদের (Enforcement Directorate) দাবি, সোনা পাপ্পুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। সেই সূত্র ধরেই বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির যোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি সূত্রে আরও খবর, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা ঘোরানো হয়েছিল এবং সেই অর্থ প্রভাবশালী মহলের কাছেও পৌঁছয়। পরে সেই টাকা আবার একাধিক ব্যবসা ও সংস্থায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের।

আরও পড়ুনঃ আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না অভিষেক! বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে গ্রেফতার করে ইডি (Enforcement Directorate)। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, এলাকা দখল, বেআইনি নির্মাণ ও গুণ্ডাগিরির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই তাঁর খোঁজ শুরু করেছিল ইডি। একাধিকবার তলব করা হলেও দীর্ঘদিন তিনি অধরা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজেই ইডি দফতরে হাজির হন। প্রায় ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।













