বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নতুন চাকরি পাওয়া মানেই নতুন স্বপ্ন, ভালো বেতন আর পদোন্নতির খুশি। কিন্তু এই খুশির মাঝেই অনেকেই এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যা ভবিষ্যতের জন্য মোটেই ভালো নয়। চাকরি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গেই অনেক কর্মী নিজের পুরনো ইপিএফও (EPFO) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত যে একেবারেই ঠিক নয়, তা জানাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
চাকরি বদলালেই কেন ইপিএফও (EPFO) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা ঠিক নয়
নতুন চাকরি পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন, পুরনো ইপিএফও (EPFO) অ্যাকাউন্ট আর কোনও কাজে লাগবে না। তাই সেটি বন্ধ করে টাকা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কোনও বাড়তি বা আলাদা প্রাপ্তি নয়। এটা দীর্ঘদিন ধরে জমা হওয়া আপনার নিজেরই টাকা, যা এতদিন সরকারের কাছে সুরক্ষিত ছিল।
অ্যাকাউন্ট চালু থাকলে টাকাও থাকে, সুদও বাড়ে
আপনি যদি আপনার পুরনো ইপিএফও (EPFO) অ্যাকাউন্ট বন্ধ না করেন, তাহলে সেই অ্যাকাউন্টে জমা টাকা সেখানেই থেকে যায়। শুধু তাই নয়, ওই টাকার উপর বছর বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ দেয় কেন্দ্র সরকার। ফলে দীর্ঘদিন টাকা পড়ে থাকলেও তা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। বর্তমানে ইপিএফওর (EPFO) অছি পরিষদ বছরে ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে থাকে। এই সুদের হার সাধারণ ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
ব্যাঙ্কের এফডির চেয়েও বেশি লাভ
ইপিএফওর (EPFO) দেওয়া সুদের হার অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের চেয়ে বেশি। তার মানে, অবসরের সময় সুদ সমেত আপনার হাতে যে পরিমাণ টাকা আসবে, তা মোটেই কম নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে এই সঞ্চয় আপনার ভবিষ্যতের বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে।
তরুণদের জন্য কেন আরও জরুরি?
আপনার বয়স যদি এখন ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হয়, তাহলে এই ইপিএফও (EPFO) অ্যাকাউন্ট আপনাকে আরও ২৫ থেকে ৩০ বছর টেনে নিয়ে যেতে হবে। এত দীর্ঘ সময় ধরে টাকা জমা থাকলে সুদের অঙ্কও অনেকটা বেড়ে যায়। তাই এই অ্যাকাউন্ট কখনওই বন্ধ করা উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ সিঙ্গুরে বড় শিল্প লগ্নি! ৫০০ কোটি বিনিয়োগে সিলমোহর নবান্নের
চাকরি বদলালেও ইপিএফও (EPFO) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা মানেই নিজের ভবিষ্যতের সঞ্চয়ে কাঁচি চালানো। যতদিন সম্ভব এই অ্যাকাউন্ট চালু রাখলেই, অল্প জমাতেও ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের টাকা ফিরে পাওয়া সম্ভব।












