সিঙ্গুরে বড় শিল্প লগ্নি! ৫০০ কোটি বিনিয়োগে সিলমোহর নবান্নের

Published on:

Published on:

Mamata Banerjee Pushes Infrastructure Alongside Industrial Growth
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত সপ্তাহের বিজনেস কনক্লেভে রাজ্যে শিল্পায়নের যে দ্রুত গতি দেখা গিয়েছে, তা ধরে রাখতে আগাম প্রস্তুত হতে চাইছে রাজ্য সরকার। শুধু নতুন শিল্প বসানো নয়, শিল্প ও মানুষের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলাতেও জোর দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই লক্ষ্যেই বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ল।

বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত মমতার (Mamata Banerjee)

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকার পিপিপি মডেলে জেএসডব্লু এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে কাজ করবে। চন্দ্রিমা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির জন্য রাজ্য সরকার দরপত্র বা ‘বিড’ আহ্বান করেছিল। সেই বিডে জেএসডব্লু এনার্জি জানায়, তারা ৫.৮১ কিলোওয়াট আওয়ার দরে বিদ্যুৎ দিতে পারবে। এরপরই মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, এই সংস্থার সঙ্গেই যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেএসডব্লু এনার্জি ৮০০ মেগাওয়াট করে দু’টি নিউ সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করবে। মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১৬০০ মেগাওয়াট। এই প্রকল্প গড়ে তোলার পর তা পরিচালনার দায়িত্ব ২৫ বছরের জন্য দেওয়া হচ্ছে জেএসডব্লু এনার্জিকে। প্রয়োজনে পরে আরও ৫ বছর মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। এই প্রকল্পের জন্য শালবনিতে জমি চিহ্নিত করা এবং জমি অধিগ্রহণের দায়িত্বও জেএসডব্লু এনার্জির উপরেই থাকবে।

ওয়্যারহাউস ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও জোর

শিল্পের পাশাপাশি পরিষেবা ক্ষেত্র বাড়াতেও জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিজনেস সামিটে অংশ নিয়ে নাহার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড রাজ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ওয়্যারহাউস তৈরির আগ্রহ দেখিয়েছিল। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, সংস্থাটিকে সিঙ্গুরে ১১.৩৫ একর জমি বরাদ্দ করা হচ্ছে। এই জমিতে আমাজন ও ফ্লিপকার্টের ওয়্যারহাউস সংক্রান্ত পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কের সম্প্রসারণ

হাওড়ার অঙ্কুরহাটিতে জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কের দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণের জন্য ডব্লুবিআইডিসি ০.৫ একর জমি দিচ্ছে। এই এলাকায় টেকনিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্কিল ডিপার্টমেন্ট শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের কাজ করে। পার্কের পরিধি বাড়লেও ভবিষ্যতেও ওই দপ্তরই প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকবে।

এক নজরে অন্য জমি বরাদ্দ

এছাড়াও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী –

  • বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে দেওয়া হবে ৩০.৪২ একর জমি
  • পানাগড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ১.৩৭ একর জমি
  • হরিণঘাটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ২.৭৭ একর জমি
  • জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরীতে ১.৫৫ একর জমি
  • ডোমজুড়ে জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কের অফিসের জন্য ২০৮৪.২৬ বর্গমিটার জমি

Nabanna is providing flats to the helpless in Newtown for 6 lakh

আরও পড়ুনঃ হাওড়া পুরসভায় ৫০ নয়, ৬৬ ওয়ার্ডই থাকবে! জট কাটাতে নতুন আইনি পথে রাজ্য

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে জানান, শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো এবং দক্ষ কর্মী তৈরি, সব দিক মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদা আগেভাগেই সামলাতে চায় রাজ্য সরকার।