বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইউক্রেন (Ukraine) যুদ্ধের প্রভাব এবার ইউরোপের (Europe) নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় উদ্বেগ তৈরি করছে। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে রাশিয়া (Russia) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের পাশে থাকা ন্যাটো সদস্য দেশগুলিকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ‘হাইব্রিড’ হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। এমন হামলাকে মস্কো পরবর্তীতে ‘দুর্ঘটনা’ বলে ব্যাখ্যা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। টাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এর অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি কোনও একটি দেশের ওপর হামলার ক্ষেত্রে জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করে কি না, তা পরীক্ষা করা।
বাড়ছে ‘NATO’-র একাধিক দেশে রাশিয়ার (Russia) হামলা চালানোর আশঙ্কা:
পোল্যান্ডের এই সতর্কবার্তার পরদিনই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হুমকি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ম্যাক্রোঁ জানান, ইউরোপ এবং ফ্রান্সের ওপর এই ধরনের হুমকি সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। সম্ভাব্য ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ম্যাক্রোঁর বক্তব্য, রাশিয়ার (Russia) কোনও ধরনের হামলা বা হুমকিই ফ্রান্সের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া ছাড়া থাকবে না।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যসচিবের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে? আর জি কর তদন্তে অভয়ার বাবার বড় দাবি
‘হাইব্রিড হুমকি’ বলতে শুধু সরাসরি সামরিক হামলা নয়, সাইবার আক্রমণ, নাশকতা, ড্রোনের অনুপ্রবেশ, ভুয়ো তথ্য ছড়ানো কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে নিশানা করার মতো একাধিক কৌশলকে বোঝানো হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা আধিকারিকরা সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তবে একই সঙ্গে ন্যাটো এখনও এমন কোনও ঘোষণা করেনি যে রাশিয়ার কোনও সদস্য দেশে সরাসরি সামরিক হামলা আসন্ন। ফলে বর্তমানে যে আশঙ্কাগুলি সামনে আসছে, সেগুলিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি এবং গোয়েন্দা মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত হামলার পূর্বাভাস হিসেবে নয়।
এই পরিস্থিতির পিছনে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ইউরোপের একাধিক দেশের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স-সহ ন্যাটোর বিভিন্ন সদস্য দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনকে সামরিক, আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছে। রাশিয়া অবশ্য পশ্চিমী দেশগুলির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে এবং ইউক্রেনকে পশ্চিমের সমর্থন নিয়েও বারবার আপত্তি জানিয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের প্রশ্নে রাশিয়া ব্রিটেনের বিরুদ্ধেও কড়া মন্তব্য করেছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনাও ক্রমশ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: এবার হাতের নাগালে ইলিশ! ৬০০-৭০০ টাকা কেজি, রইল বাজারের তালিকা
এদিকে পোল্যান্ড ইতিমধ্যেই পূর্ব সীমান্তে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। রাশিয়া (Russia)-ইউক্রেন সংঘাতের সাম্প্রতিক হামলার জেরে পোল্যান্ডকে একাধিকবার আকাশসীমা নজরদারি ও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখতে হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের এই প্রবণতা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব নিজেদের ভূখণ্ডে পৌঁছনোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ইউক্রেনের যুদ্ধ সরাসরি ন্যাটো-রাশিয়া সংঘাতে পরিণত হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। আপাতত ইউরোপের নজর ন্যাটোর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার পরবর্তী কার্যকলাপের দিকে।














