আর শুধু নদী নয়, এবার পুকুরেও মিলবে ইলিশ! বড় সাফল্য মিলল বাংলার গবেষণায়

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুকুরে ইলিশ চাষের (Hilsa) স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বড় পদক্ষেপ নিলেন বাংলার বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে চলা গবেষণা এবার শেষ ধাপে পৌঁছেছে। এই পরীক্ষায় সাফল্য মিললে আগামী দিনে ব্যক্তিগত পুকুরেও ইলিশ চাষ করা সম্ভব হতে পারে। ফলে বছরের যে কোনও সময় বাজারে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুকুরে ইলিশ চাষ (Hilsa) করতে বড় পদক্ষেপ

বাঙালির কাছে ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, আবেগও বটে। কিন্তু এই মাছ সাধারণত নির্দিষ্ট সময়েই বেশি পাওয়া যায়। সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই প্রায় ১০ বছর ধরে পুকুরে ইলিশ চাষের (Hilsa) উপায় নিয়ে গবেষণা করছেন কাকদ্বীপের কেন্দ্রীয় নোনা জলজীব পালন অনুসন্ধান সংস্থার বিজ্ঞানীরা।

এই দীর্ঘ গবেষণায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সাফল্য এসেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে পুকুরে ৯৮২ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের ইলিশ মাছ বড় করা সম্ভব হয়েছে। তবে গবেষণার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনও বাকি। ইলিশের ডিম থেকে পোনা তৈরি করা গেলে তবেই পুরো প্রকল্প সফল বলে ধরা হবে।

সেই লক্ষ্যেই এবার গবেষণার শেষ ধাপ শুরু হয়েছে। এ জন্য কাকদ্বীপ গবেষণা কেন্দ্রে অত্যাধুনিক স্যালিনিটি গ্রেডিয়েন্ট রিসার্কুলেটরি অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম বা আরএএস চালু করা হয়েছে। শনিবার এই ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিএআর-সিবার অধিকর্তা ড. কুলদীপ কে লাল এবং গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ড. দেবাশীষ দে।

প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা খরচ করে এই নতুন গবেষণা পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখানে এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে ইলিশের স্বাভাবিক বাসস্থানের মতো পরিস্থিতি বজায় রাখা যায়। গবেষণার মুখ্য বিজ্ঞানী ড. দেবাশীষ দে জানান, তিনটি আলাদা পাতকুয়ায় তিন ধরনের জল রাখা হয়েছে। পাম্পের সাহায্যে সেই জলে কৃত্রিম স্রোত তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি জলের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও দূষণের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। এরপর সেই পরিবেশে ইলিশের পোনা ছাড়া হয়েছে।

Final Phase of Hilsa Farming Research Begins in Kakdwip

আরও পড়ুনঃ বিক্ষোভে ভাঙচুর? এবার সুদ-সহ টাকা আদায় করবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরীক্ষার ফলাফল জানতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে ভবিষ্যতে পুকুরে ইলিশ চাষের (Hilsa) পথ খুলে যেতে পারে। তখন সাধারণ মানুষের পক্ষে সারা বছর ইলিশ মাছ পাওয়াও অনেক সহজ হয়ে যাবে।