বাংলা হান্ট ডেস্কঃ SSC মামলায় আইনি লড়াই করে হঠাৎ করেই রাজ্যের খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারে উল্টো। সেই হেভিওয়েট আইনজীবীর বিরুদ্ধেই উঠল যৌন হেনস্থার অভিযোগ। অভিযোগ দায়ের হয়েছে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায়। তদন্তে নেমেছে পুলিস।
SSC মামলায় আলোচনায় ছিলেন আইনজীবী ফিরদৌস (Firdous Shamim)
SSC মামলায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের আইনি লড়াইয়ের পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক মহিলা আইনজীবী, যিনি পেশায় তাঁরই সহকর্মী, হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
ঘটনার কয়েক দিন আগে বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, সিপিএমের এক প্রভাবশালী ‘চাকরিখেকো’ আইনজীবীর বিরুদ্ধে তাঁরই এক মহিলা সহকর্মী এবং দলের সমর্থক আইনজীবী রাজ্য সম্পাদকের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে কয়েকটি নির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অভিযুক্ত আইনজীবী নিজের প্রভাব এবং মিডিয়ার প্রচার ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করেছেন, যার মধ্যে ‘অসুরটাইপ’ আচরণের উল্লেখও ছিল। তিনি আরও লেখেন, ভুক্তভোগী মহিলা পুলিসে যাওয়ার আগে দলের কাছে বিচার চেয়ে চিঠি দেন। সেই চিঠির একটি কপি নাকি কুণাল ঘোষের হাতেও পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয় পোস্টে। অভিযোগকারিনী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ওই মহিলাকে মুখ বন্ধ রাখতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
যদিও কুণাল ঘোষ পোস্টে অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম উল্লেখ করেননি, তবে ‘চাকরিখেকো’, ‘মামলা করে চাকরি বাতিলের কারিগর’ এবং ‘মিডিয়ায় ডায়লগবাজি’, এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন তিনি। এসএসসি মামলায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে কুণালের দাবি ছিল, যে ব্যক্তি আইনি লড়াইয়ের নামে হাজার হাজার মানুষের রুজি-রোজগার কেড়ে নিয়েছেন, তাঁর আসল চরিত্র নাকি এবার দলের অন্দরেই সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষক নিয়োগে কড়া বার্তা! ৩০ মার্চের মধ্যে নির্দেশ না মানলে জেল, সতর্ক করল কলকাতা হাই কোর্ট
এই প্রেক্ষিতে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, দলের নেতৃত্ব কি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি অভিযোগকারিনীকে চুপ করানোর চেষ্টা চলবে? এখন পুরো বিষয়টি তদন্তের অধীনে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পুলিস খতিয়ে দেখছে। কী বেরিয়ে আসে তদন্তে, সেদিকেই নজর রয়েছে।












