উড়ান চলাচল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত বড় পদক্ষেপ! এই বিমানবন্দরে শুরু ভারতের প্রথম Skycast সিস্টেম

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) বিমান চলাচল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল শুক্রবার। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের প্রথম ‘স্কাইকাস্ট’ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও নাউকাস্টিং সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে আবহাওয়াজনিত সমস্যাকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যেই এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কুয়াশা, ঝড়, টার্বুলেন্স বা অন্যান্য প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যে বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বিলম্বিত, বাতিল বা অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দিতে হয়, সেই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। একইসঙ্গে বিমান ওঠানামার নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক পরিচালন ব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দিল্লি বিমানবন্দরে শুরু ভারতের (India) প্রথম Skycast সিস্টেম

স্কাইকাস্ট মূলত একটি সমন্বিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যা রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি, অ্যাটমস্ফেরিক প্রোফাইলিং সিস্টেম এবং উন্নত নাউকাস্টিং টুলকে একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আবহাওয়ার ক্ষুদ্রতম পরিবর্তনও রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এই প্রযুক্তি তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি ও দিক, জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, মেঘের জলীয় উপাদান, উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহ এবং ভূমির কাছাকাছি বায়ুর গতিবিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। ফলে আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়ে অনেক আগেই সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান পরিবহণে আবহাওয়ার পূর্বাভাস যত নির্ভুল হবে, ততই ঝুঁকি কমবে এবং যাত্রী পরিষেবাও উন্নত হবে।

আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুর ২.০-র প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত! পাকিস্তানকে সতর্ক করে কী জানালেন সেনাপ্রধান?

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র সিং বলেন, এই ব্যবস্থা খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট চলাচলে যে বিঘ্ন ঘটে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। তাঁর মতে, স্কাইকাস্ট প্রায় তিন ঘণ্টা আগেই পাইলট, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারবে। এর ফলে অবতরণ বা উড্ডয়নের সবচেয়ে নিরাপদ সময় নির্ধারণ করা সহজ হবে। তিনি আরও জানান, দিল্লির মতো শহরে দূষণ এবং কুয়াশার মিশ্রণে দৃশ্যমানতা দ্রুত কমে যায়। সেই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতেও এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে কাজ করবে। বাতাস, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার উল্লম্ব প্রোফাইল বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

দিল্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেডের সিইও বিবেদ কুমার জয়পুরিয়া জানান, স্কাইকাস্ট দিল্লি বিমানবন্দরকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলবে। তাঁর কথায়, আবহাওয়া কখনও কখনও খুব দ্রুত বদলে যায় এবং সেই সময়ে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবস্থা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, পাইলট এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। সংস্থার দাবি, স্কাইকাস্ট আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা এবং মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি রানওয়ে-নির্দিষ্ট উইন্ড শিয়ার সতর্কবার্তাও দিতে সক্ষম, যা বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

First Skycast system of India to be launched at this Airport.

আরও পড়ুন: ভারতে অবৈধভাবে বসবাস! বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হল কয়েক হাজার অনুপ্রবেশকারীর নাম

বিশ্বের মাত্র ১৯তম দেশ হিসেবে ভারত (India) এই ধরনের সমন্বিত বিমান চলাচল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দেশের বিমান পরিবহণ খাতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকীকরণ আরও একধাপ এগোল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, দিল্লির পর উত্তরপ্রদেশের নয়ডা বিমানবন্দর হবে দেশের দ্বিতীয় বিমানবন্দর যেখানে স্কাইকাস্ট প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরেও এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ফ্লাইট পরিচালনার দক্ষতা উন্নয়ন এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর ক্ষেত্রে স্কাইকাস্ট একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক মানের আবহাওয়া-ভিত্তিক বিমান পরিচালনা ব্যবস্থার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।