বাংলাহান্ট ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে (New Delhi) পাকিস্তান হাই কমিশনের (Pakistan High Commission) বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনল ভারত (India)। হাই কমিশনের বাইরের ট্র্যাফিক ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, বেশ কিছু ব্যারিকেড বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে পাকিস্তান নিরাপত্তা ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
কোন কারণে পাক হাই কমিশনের বাহ্যিক নিরাপত্তা তুলে নিল ভারত (India)?
গত বছর পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। ওই হামলার পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত অঞ্চলে জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারত। ভারতীয় সেনার অভিযানে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করা হয়। পরে সামরিক সংঘাত থামলেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বরফ গলেনি। বরং একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। তারই মধ্যে দুই দেশের হাই কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে (India)।
আরও পড়ুন: প্রেগনেন্সি চলাকালীন নেন UPSC-র প্রস্তুতি! প্রথমবারেই মেলে সফলতা, IPS হয়ে স্বপ্নপূরণ শাহনাজের
এর পাশাপাশি মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক শ্রীনগর সফরও পাকিস্তানের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত গোর জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। শ্রীনগরে গিয়ে তিনি কাশ্মীরের সৌন্দর্যের প্রশংসা করার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকার এবং জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়। এই মন্তব্য যে পাকিস্তানের কাছে অস্বস্তিকর, তা পরবর্তী ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
গোরের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে ইসলামাবাদে মার্কিন চার্জ ডিঅ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে তথ্যগত ভাবে ভুল বলেও দাবি করে ইসলামাবাদ। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের অসন্তোষ নতুন নয়, তবে এই ঘটনায় ফের দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান প্রকাশ্যে চলে আসে। বিশেষ করে ভারত যখন কাশ্মীরকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তুলে ধরছে, তখন পাকিস্তান তার বিরোধিতা করে চলেছে। ফলে সীমান্তের উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারত-পাক সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:বিজ্ঞাপনে বড়সড় বদল! বলা যাবে না ‘১০০ শতাংশ খাঁটি’, FSSAI-র চাপে নতি স্বীকার Emami সহ ৫ সংস্থার
এই পরিস্থিতিতেই নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরের ব্যারিকেড সরানোর ঘটনা সামনে এসেছে। ঘটনাটি শুধুমাত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, কয়েক দিন আগেই ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে একই ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়েছিল পাকিস্তান। তার পরেই দিল্লির পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সামরিক সংঘাত আপাতত থেমে থাকলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক যে এখনও স্বাভাবিক হয়নি, হাই কমিশন ঘিরে সাম্প্রতিক এই ঘটনাই তার আরও একটি ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ (India)।














