বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) চরম অচলাবস্থার মধ্যেই এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। সে দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন ও অন্যান্য ভারতীয় সরকারি কেন্দ্রে কর্মরত আধিকারিকদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশের ফলে বাংলাদেশে ভারতের দূতাবাস বা কনসুলার পরিষেবায় কোনও ছেদ পড়বে না।
অশান্তির আবহে বাংলাদেশে (Bangladesh নিযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের বড় নির্দেশ বিদেশ মন্ত্রকের
পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সহ বাংলাদেশে কর্মরত সমস্ত ভারতীয় আধিকারিকরা নিজ নিজ দায়িত্বে বহাল থাকবেন। কেবল তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ এবং পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কীভাবে ঘটল সংক্রমণ তা অজানা! কেমন আছেন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্স? মিলল আপডেট
কেন হঠাৎ এই নির্দেশ, তা নিয়েও ওয়াকিবহাল মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এর মূল কারণ বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিরোধী আন্দোলন, পাল্টা কর্মসূচি এবং রাজপথের সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে মৌলবাদী শক্তির সক্রিয়তা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নির্বাচনের আবহে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অস্থিরতা। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। এরই মধ্যে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংয়ে হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনির পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: গোটা বিশ্বকে চমকে দেবে ভারত! গভীর সমুদ্রের রহস্য জানতে ডুব দিতে প্রস্তুত Matysa 6000
এই ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে একাধিক হিন্দু ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক হিংসার শিকার হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। গোটা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা যাতে কোনওভাবেই ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আপাতত উদ্বেগ বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে।












