বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফের শিরোনামে কেপি শর্মা ওলি (K.P Sharma Oli)! নেপালে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। শনিবার ভোরে তাঁর বাসভবনে হানা দিয়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও। হঠাৎ এই পদক্ষেপে নেপালের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেফতার নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (K.P Sharma Oli)
চলতি মাসের ৫ তারিখ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। শুক্রবারই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বলেন্দ্র শাহ। ক্ষমতায় আসার একদিনের মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন: ২ কোটির চাকরি ছেড়ে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে শুরু ব্যবসা! তারপরেই যা করে দেখালেন যশ…
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালের জেন জ়ি আন্দোলন, যা তৎকালীন ওলি সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল। সমাজমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ দ্রুতই বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত হয়। সেই বিক্ষোভে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যাঁদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন তরুণ। ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ওলি।
এরপর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন নেপালের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ক্ষমতা পরিবর্তনের পরই এই গ্রেফতারি নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন:অনুপ্রবেশ থেকে চাকরি, ভোটের আগে বাংলায় শাহের ৩৫ পাতার ‘বিস্ফোরক’ চার্জশিট, চাপে তৃণমূল
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলি (কে.পি Sharma Oli) এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। যদিও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, এটি প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা। সরকারের দাবি, জেন জ়ি আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া হিংসা ও মৃত্যুর ঘটনায় ওলি ও তাঁর মন্ত্রিসভার ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে নেপালের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।












