বাংলা হান্ট ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ বেতনের চাকরি, বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার প্যাকেজ এবং বিলাসবহুল জীবন সহ সবকিছু ছেড়ে এক ভিন্ন পথ বেছে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের বাসিন্দা যশ কুমার। ২০১৪ সালে দেশে ফিরে এসে তিনি শুরু করেন ‘হোমিহাটস’ নামে একটি জিরো-কমিশন হোমস্টে প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য ভারতের ছোট হোমস্টে মালিকদের সমস্যার সমাধান করা। যেখানে বড় প্ল্যাটফর্মগুলি ১৫-২১ শতাংশ কমিশন নেয়, সেখানে যশের উদ্যোগ হোমস্টে মালিকদের সম্পূর্ণ আয় নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ দেয়।
যশ কুমারের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story):
একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া যশের বাবা ভারতীয় রেলে কর্মরত ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজের কেরিয়ার গড়ার কাজ শুরু করেন। কিন্তু ২০১৮ সালে দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের সময় তিনি উপলব্ধি করেন, দেশের বহু সুন্দর হোমস্টে ও কটেজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জায়গা পাচ্ছে না। ভাষা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ছোট মালিকরা বড় প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। এই সমস্যাই তাঁকে নতুন কিছু ভাবতে অনুপ্রাণিত করে।
আরও পড়ুন: জোজিলা পাসে তুষারধসে মৃত অন্তত ৭! শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কে বরফের নিচে আটকে বহু গাড়ি
সমস্যার সমাধান খুঁজতেই তিনি সবকিছু ছেড়ে ভারতে ফিরে আসেন এবং উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় ছয় মাস ধরে গবেষণা চালান। এরপর তিনি ‘হোমিহাটস’ নামে একটি অ্যাপ বের করেন। এই প্ল্যাটফর্মে হোমস্টে মালিকরা মাত্র ৪৯০ টাকার মাসিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে নিজেদের প্রপার্টি তালিকাভুক্ত করতে পারেন। পাশাপাশি ‘হোস্ট ইট ইয়োরসেলফ’ ফিচার, চ্যানেল ম্যানেজার এবং সরাসরি বুকিংয়ের সুবিধা দিয়ে ডাবল বুকিংয়ের ঝুঁকি কমানো হয়েছে এবং আয় সরাসরি হোস্টদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।
ভারতের বৈচিত্র্যময় ভাষার কথা মাথায় রেখে অ্যাপটি হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও কন্নড় ভাষায় উপলব্ধ করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত ডাইনামিক প্রাইসিং টুল এবং চ্যাটবট, যা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ করে। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি হোস্টকে ভিডিও কেওয়াইসি এবং মালিকানার প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। এই সমস্ত উদ্যোগের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই স্টার্টআপটি ১৬টি রাজ্যে ২,০০০-এর বেশি প্রপার্টি যুক্ত করেছে এবং বুকিং ভলিউম ২ কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়েছে।

আরও পড়ুন: ফের মাস্টারস্ট্রোক মমতার! ১০ লক্ষ টাকা ও ২ টি ফ্ল্যাটের ঘোষণা, কারা পাবেন জানুন
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও বড় লক্ষ্য স্থির করেছেন যশ কুমার। ২০২৬ সালের মধ্যে ১০,০০০ এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ২০,০০০ হোমস্টে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ‘লেটলুপ’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারেও প্রবেশের প্রস্তুতি চলছে। কোনও বাহ্যিক তহবিল ছাড়াই তিনি এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চান, যা ভারতীয় হোমস্টে মালিকদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং দেশের পর্যটন শিল্পকে নতুন দিশা দেখাবে (Success Story)।












