বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, সরকার দেশজুড়ে পাবলিক ওয়াই-ফাই-এর (Free WIFI) একটি নতুন এবং অ্যাডভান্স সিস্টেম চালু করার কথা বিবেচনা করছে। মূলত, PM-WANI প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া তথা TRAI এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে যা শুধু নিরাপদই নয়, বরং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সহজ হবে। উল্লেখ্য যে, ট্রাই (TRAI) প্রস্তাব করেছে যে সারাদেশে ৪ লক্ষ হটস্পট থাকবে এবং সেগুলিতে কানেক্ট করার জন্য বারবার লগইন বা ওটিপি (OTP)-র প্রয়োজন হবে না। এদিকে, এই প্রস্তাবটি শুধু জনসাধারণের জন্য ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকারই বাড়াবে না, বরং ব্যয়বহুল মোবাইল ডেটার ওপর নির্ভরতাও কমাবে। সরকারের এই পদক্ষেপটি ডিজিটাল পরিকাঠামোর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বড় পরিকল্পনা TRAI-র (Free WIFI):
একটি পাসওয়ার্ড এবং সিঙ্গেল লগইনের সুবিধা: TRAI-এর প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, দেশজুড়ে উপলব্ধ ওয়াই-ফাই হটস্পটগুলিবএকটিমাত্র পাসওয়ার্ড এবং সিঙ্গেল লগইন সিস্টেমে কাজ করবে। এর মানে হল, একবার লগইন করলেই ব্যবহারকারীরা দেশজুড়ে থাকা ৪ লক্ষ হটস্পটের যেকোনওটিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

রেভিনিউ মডেলও প্রস্তুত থাকবে: এদিকে, TRAI-এর প্রস্তাবে শুধু বিনামূল্যে ইন্টারনেটের ওপরেই নয়, বরং একটি রেভিনিউ মডেলের ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরনো ব্যবস্থাটি ব্যর্থ হওয়ার একটি প্রধান কারণ ছিল অপারেটরদের আয়ের উৎসের অভাব। তবে, এই নতুন ফ্রেমওয়ার্ক ঘাটতি পূরণ করবে এবং সম্ভবত বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক মডেল, পেইড প্ল্যান ও সাবসিডির মতো বিকল্প ব্যবস্থা রাখবে। এর ফলে ছোট অপারেটররা আয় করার পাশাপাশি নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও, শহরগুলিতে হাই-স্পিড ইন্টারনেট এবং গ্রামগুলিতে স্বল্প খরচের কমিউনিটি ওয়াই-ফাই মডেল বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে ডিজিটাল পরিষেবা সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছতে পারে।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধ পাগলামির সমান! অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে কী জানাল পাকিস্তান?
কীভাবে উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ: উল্লেখ্য যে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করেন। এদিকে, রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় এই হার ৮০ শতাংশ এবং আমেরিকায় ৭০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত, পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর চাপ কমে যায়।
আরও পড়ুন: IPL-এর মাঝেই দুঃসংবাদ! ৩৬ বছর বয়সে প্রয়াত পাঞ্জাব কিংসের প্রাক্তন পেসার, খেলেছেন কোহলির সঙ্গেও
এই প্রসঙ্গে BSNL-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান অরুণ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ভিডিও, ক্লাউড এবং AI-র মতো পরিষেবাগুলির জন্য এই প্রযুক্তিটি একটি দারুণ বিকল্প। যদি এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সফল হয়, তবে এটি সেই সমস্ত ব্যবহারকারীর জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হবে যাঁরা ব্যয়বহুল ডেটা প্ল্যান কেনার সামর্থ্য রাখেন না। এর পাশাপাশি, দেশজুড়ে স্থাপিত হটস্পটগুলির মাধ্যমে জনগণ সহজেই ই-গভর্ন্যান্স পরিষেবাও পাবেন।













