‘সুষ্ঠু ভোট অসম্ভব’, দিল্লি থেকে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগল আওয়ামী লীগ

Published on:

Published on:

From Delhi Awami League gave message to Yunus govt.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ১৭ মাস পর, প্রথমবারের মতো ভারতে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন করল বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতারা বর্তমান মহম্মদ ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপর তীব্র অভিযোগ তোলেন। তারা দাবি করেন, সরকার আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণে বাধা দিচ্ছে এবং দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে।

দিল্লি থেকে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে বার্তা আওয়ামী লীগের (Awami League):

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ এবং দলের আরেক শীর্ষ নেতা মহিদুল হাসান চৌধুরী। হাসান মাহমুদ বলেন, “আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি এবং জনশক্তিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু বর্তমান সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।” তাদের অভিযোগ, ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাদের রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: শীত নয়, রাত পোহালেই দক্ষিণবঙ্গে অন্য খেলা শুরু আবহাওয়ার, আগাম আপডেট

আওয়ামী লীগ নেতারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হাসান মাহমুদ ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘু সুরক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের আরও দাবি, ইউনূস সরকারের নির্দেশে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, যা আইনের শাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে গণবিক্ষোভের পরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা ত্যাগ করে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, ফলে দলটি সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। হাসান মাহমুদের মতে, এই অবস্থায় নির্বাচন হলে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে।

From Delhi Awami League gave message to Yunus govt.
বাংলাদেশের প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাসান মাহমুদ

আরও পড়ুন: বিস্ময় বালক! মাত্র ২০ ম্যাচেই যা করে দেখালেন বৈভব সূর্যবংশী, পিছিয়ে পড়লেন বিরাট কোহলিও

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার অভিযোগ করেছে যে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের বিক্ষোভ দমনে শেখ হাসিনার নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালিয়েছিল, যাতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়। একটি আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা জাতিসংঘের রিপোর্টটিকে একপক্ষীয় বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন, এতে তাদের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত না করায় তারা জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন। এই সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং আওয়ামী লীগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।