আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে করেন পড়াশোনা! এখন ৯৫,০০০ কোটির কোম্পানির মালিক গিরিশ

Published on:

Published on:

Girish Mathrubootham's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে ভয় না পেয়ে লড়াই করার মানসিকতাই অনেক সময় সাফল্যের (Success Story) চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। এমনই এক অনুপ্রেরণার গল্প গিরিশ মাতৃভূথমের। আজ তিনি বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার সংস্থা ফ্রেশওয়ার্কস ইনকর্পোরেটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে অর্থকষ্ট, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং একের পর এক ব্যর্থতার সঙ্গে লড়াই করার ইতিহাস। এক সময় এমবিএ পড়ার মতো অর্থও ছিল না তাঁর হাতে। ধার করে পড়াশোনা শেষ করা সেই তরুণই আজ প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকার সংস্থার কর্ণধার।

গিরিশ মাতৃভূথমের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

৪৬ বছর বয়সী গিরিশ মাতৃভূথম ২০১০ সালে চেন্নাইয়ে ফ্রেশওয়ার্কসের সূচনা করেন। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই সংস্থা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নেয় এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সদর দপ্তর স্থাপন করে। ২০২১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে সংস্থার আইপিও ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেই আইপিওর মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ হয় এবং ফ্রেশওয়ার্কসের প্রায় ৫০০ কর্মী রাতারাতি কোটিপতি হয়ে ওঠেন। এই ঘটনাই গিরিশকে বিশ্ব প্রযুক্তি দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

আরও পড়ুন: অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার ছাত্রী, স্কটিশ চার্চ কলেজের হোস্টেলে অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তোলপাড়

তামিলনাড়ুর ত্রিচিতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গিরিশের। ছোট বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। সাত বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। স্কুল শেষে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চেন্নাই যান তিনি। পরে এমবিএ করার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর বাবা, যিনি একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারী ছিলেন, আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা ধার করে ছেলের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন। সেখান থেকেই গিরিশ টাকার মূল্য এবং দায়িত্ববোধ শিখেছিলেন বলে নিজেই জানিয়েছেন।

কর্মজীবনের শুরুতে গিরিশ এইচসিএল, জোহো-সহ একাধিক সংস্থায় কাজ করেন। মাঝখানে ব্যর্থ স্টার্টআপের অভিজ্ঞতাও হয়েছে তাঁর। তবে সেই ব্যর্থতাই তাঁকে আরও পরিণত করে তোলে। ফ্রেশওয়ার্কস গড়ে তোলার সময় তিনি ব্যবহারবান্ধব ও উচ্চমানের সফটওয়্যার তৈরিতে জোর দেন। কাস্টমার সাপোর্ট, সেলস এবং সিআরএম সফটওয়্যার নিয়ে সংস্থার পণ্যের পরিসর দ্রুত বিস্তৃত হয়। ফ্রেশডেস্ক নামে পরিচিত এই ব্র্যান্ড অল্প সময়েই বিশ্ববাজারে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

Girish Mathrubootham's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: ইনকাম ট্যাক্সে পরিবর্তন না হলেও করদাতারা পাবেন একগুচ্ছ সুবিধা! বাজেটে কী ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর?

মাত্র আট বছরে ফ্রেশওয়ার্কস শূন্য থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের সংস্থায় পরিণত হয় এবং তার দেড় বছরের মধ্যেই সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ২০০ মিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় সদর দপ্তর থাকা এই সংস্থার অফিস রয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে। ফ্রেশওয়ার্কসের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। গিরিশ মাতৃভূথমের যাত্রা প্রমাণ করে, সাহস করে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে সাফল্য একদিন ঠিকই ধরা দেয়।