বাংলাহান্ট ডেস্ক: কর ব্যবস্থাকে সহজ ও করদাতা-বান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন স্পষ্ট করেন যে সরকারের কৌশল সরাসরি কর ছাড় দেওয়ার পরিবর্তে করপ্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করা এবং স্বস্তি তৈরি করা। এই নীতির প্রতিফলন এবারের বাজেটে স্পষ্ট, যেখানে ১ এপ্রিল থেকে নতুন আয়কর আইন কার্যকর করা ছাড়াও ছোটখাটো করফাঁকির জন্য কঠোর শাস্তির বদলে নমনীয় নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) করদাতাদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা
অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে অনিচ্ছাকৃত বা সামান্য করফাঁকির ক্ষেত্রে করদাতাদের আর জেলের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। এর পরিবর্তে, অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়েই দায়মুক্তি মিলবে। সরকারের যুক্তি, করকাঠামোর জটিলতার কারণে অনেক ছোট করদাতা বিভ্রান্ত হন এবং অজান্তেই ভুল করেন; এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের মানসিক চাপ ও ভীতি দূর করা উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: বাজেট ২০২৬-এ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ১০ টি বড় ঘোষণা! যেগুলি পাল্টে দেবে ভারতের ছবি
আয়কর সংক্রান্ত আরেকটি বড় স্বস্তির ঘোষণা এসেছে ক্ষতিপূরণের করমুক্তির মাধ্যমে। এতদিন গাড়ি দুর্ঘটনার বিমা দাবি, সরকারি ক্ষতিপূরণ বা বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের ওপর ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হতো। এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাজনিত বিমা ক্লেইম বা ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে এখন থেকে কোনো কর দিতে হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক স্বস্তি বয়ে আনবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা হলো, আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশে নতুন আয়কর আইন কার্যকর হবে। এই আইনের আওতায় কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমাতেও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ করদাতারা ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। যেসব ব্যবসায়িক সংস্থা বা ট্রাস্টের জন্য অডিট বাধ্যতামূলক নয়, তাদের জন্য এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ অগস্ট করা হয়েছে, যা করদাতাদের জন্য কিছু বাড়তি সুবিধা দেবে।

আরও পড়ুন: প্রতি ১০ লক্ষে মাত্র ২২ জন! বিচারক সংকটে নাজেহাল দেশ, মামলার পাহাড়ে ধুঁকছে ভারতের আদালত
তবে লক্ষণীয় যে, এসব সংস্কারের মধ্যেও সরাসরি আয়করের হার বা স্ল্যাবে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সরকারের জোর ছিল করপ্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ ও ভীতিমুক্ত করার দিকেই। সামগ্রিকভাবে, এবারের বাজেট করদাতাদের জন্য সরাসরি ছাড়ের বদলে প্রক্রিয়াগত সংস্কার ও মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি দেওয়ার পথেই হেঁটেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












