বাংলাহান্ট ডেস্ক: নবম বারের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বাজেটে এমন একাধিক ঘোষণা করেছেন যা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিত্র বদলে দিতে পারে। নতুন রেল করিডর তৈরি, মূলধন ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ এরকম ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী আজকের বাজেটে করেছেন যা বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে। চলুন এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।
কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) অর্থমন্ত্রীর ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা:
1. ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে ‘উন্নত ভারতের জন্য ব্যাঙ্কিং’ শীর্ষক একটি উচ্চ-স্তরের কমিটি গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে, যা আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করবে।
2. পরিবেশবান্ধব ও দ্রুত যাত্রী পরিবহণের লক্ষ্যে সাতটি নতুন হাই-স্পিড রেল করিডোরের ঘোষণাও করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মুম্বই-পুনে, পুনে-হায়দ্রাবাদ, হায়দ্রাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি রুট।
3. আর্থিক বাজারকে আরও শক্তিশালী করতে কর্পোরেট বন্ড সূচকে তহবিল ও ডেরিভেটিভসের প্রবেশাধিকারের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে কর্পোরেট বন্ড বাজারে তারল্য বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ২০২৬ বাজেটে নির্মলার মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার বুক চিরে ছুটবে বুলেট ট্রেন? হয়ে গেল বড় ঘোষণা
4. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে ১০,০০০ কোটি টাকার নতুন তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কন্টেইনার উৎপাদন প্রকল্পের ঘোষণা এই বাজেটকে ভবিষ্যতমুখী করেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
5. স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্ব দিয়েছে বাজেট। উত্তর ভারতে একটি শীর্ষস্থানীয় মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘NIMHANS ২.০’ গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে।
6 পাশাপাশি মুম্বই-ভিত্তিক ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিসের সহায়তায় দেশের ১৫ হাজার বিদ্যালয়ে কনটেন্ট ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ডিজিটাল ও সৃজনশীল শিক্ষাকে নতুন গতি দেবে।
7. বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যপক ছাড় দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত বিনিয়োগের সীমা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ এবং মোট সীমা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৪ শতাংশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলা নাকি অন্য রাজ্যের ছোঁয়া! বাজেট পেশে কোন রাজ্যের শাড়ি বাছলেন অর্থমন্ত্রী
8. রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৭ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৪.৩ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
9. একই সঙ্গে আত্মনির্ভর ভারত তহবিলে অতিরিক্ত ৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে এমএসএমই ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।
10. ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মূলধন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের সরকারি ক্যাপেক্স বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, মূলধনি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে বরাদ্দ করা হয়েছে ১১ লক্ষ কোটি টাকা।












