বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভারতের বিচার ব্যবস্থা (Indian judiciary) এখন এক কঠিন সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা এতটাই কম যে মামলার পাহাড় জমে উঠছে দিনের পর দিন। প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের জন্য মাত্র ২২ জন বিচারক রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এর ফলে সাধারণ মানুষ সময়মতো ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না, দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মামলা।
২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই চিত্র সামনে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের জনশুমারির প্রায় ১০২ কোটি জনসংখ্যা এবং ২০২৬ সালে আদালতগুলিতে অনুমোদিত বিচারকের সংখ্যার ভিত্তিতে এই অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যা বিচার ব্যবস্থার (Indian judiciary) প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা কম (Indian judiciary)
ভারতের আইন কমিশনের ১২০তম প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের জন্য অন্তত ৫০ জন বিচারক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তব চিত্র তার ধারেকাছেও নেই। ফলে মামলার নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লেগে যাচ্ছে (Indian judiciary)।
বর্তমানে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে মোট ৩৪টি বিচারপতির আসন রয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ জন কর্মরত। অন্যদিকে, হাই কোর্টগুলিতে অনুমোদিত ১,০২২টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮১৪ জন বিচারক কাজ করছেন। জেলা ও নিম্ন আদালতগুলিতে বিচারকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি—মোট ২০,৮৩৩ জন বিচারক রয়েছেন, যাঁরা দেশের অধিকাংশ মামলার দায়ভার সামলান।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার। এত বিপুল সংখ্যক মামলা ও বিচারাধীন আসামি থাকার পরেও বহু বিচারকের পদ খালি পড়ে থাকায় পুরো ব্যবস্থায় (Indian judiciary) কাঠামোগত সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ২০২৬ বাজেটে নির্মলার মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার বুক চিরে ছুটবে বুলেট ট্রেন? হয়ে গেল বড় ঘোষণা
বিচারকের অভাবের কারণেই মামলার শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে, মানুষ দ্রুত বিচার পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮৪৭ জন বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও যথেষ্ট নয়। সব মিলিয়ে বিচার ব্যবস্থার (Indian judiciary) এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।












