বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গতকাল অর্থাৎ শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক আগেই উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় হঠাৎই উত্তেজনা ছড়ায় (Girish Park Clash)। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর এবং মারধরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ। এই ঘটনার জেরে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজার বিরুদ্ধে গিরিশ পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। একইসঙ্গে তৃণমূলও পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছে। ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতেও হামলার অভিযোগ
সংঘর্ষের ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীকে ইটের আঘাতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। কিছু সময়ের জন্য সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর যান চলাচলও প্রায় থমকে যায়। এদিকে অভিযোগ ওঠে, গিরিশ পার্ক এলাকায় রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। মন্ত্রী দাবি করেছেন, তিনি নিজেও এই ঘটনায় আহত হয়েছেন।
মন্ত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করে বলেন, তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমার বাড়ির সামনে দিয়ে ব্রিগেডের মিছিল যাচ্ছিল। আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বিজেপি গুন্ডা ও খুনি পুষছে। আগে গণতান্ত্রিক খুন দেখতাম, আজ সরাসরি শারীরিক আক্রমণ দেখলাম।” এই ঘটনার পর তিনি এফআইআর দায়ের করার কথাও জানান।
কী নিয়ে সংঘর্ষ (Girish Park Clash)?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কিছু ফ্লেক্স টাঙানো ছিল। অভিযোগ, ব্রিগেডের সভায় যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীরা সেই ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলেন। তা নিয়েই প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং দু’পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির দুষ্কৃতীরা বিনা প্ররোচনায় তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সভায় যাওয়ার সময় তৃণমূল কর্মীরাই প্রথম হামলা করে।
এই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার বিকেলেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। কমিশনের প্রশ্ন, কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের রাস্তায় নামানো হয়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর সহ মোট ৮ জন পুলিশকর্মী আহত হন। আহতদের তালিকায় রয়েছেন বিজেপির উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থকও।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার (Girish Park Clash) জেরে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাতেই তৃণমূল ও বিজেপি, দু’পক্ষই গিরিশ পার্ক থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। বিজেপি শশী পাঁজার বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় কবে ভোট? বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে (Girish Park Clash) আহত ৮ জন পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৬ জনকে ইতিমধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও দু’জন পুলিশকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।












