পার পাবে না কেউ! অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ‘অ্যাকশন’, জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার গড়ার নির্দেশ রাজ্য সরকারের

Published on:

Published on:

government of West Bengal orders construction of holding centers for infiltrators
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে সরকার (Government of West Bengal) পরিবর্তনের পর থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রশাসনিক কড়াকড়ির ইঙ্গিত মিলেছিল। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে ক্ষমতায় আসার পরেও বিজেপি নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এবার সেই অবস্থান কার্যকর করার দিকেই বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal)

জানা যাচ্ছে, জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, যেখানে চিহ্নিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হবে ডিপোর্টের আগে। “ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট”— এই নীতিকেই সামনে রেখে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, কাউকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে শনাক্ত করা গেলে তাঁকে সরাসরি পাঠানো হবে নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে।

রাজ্যের সব জেলা শাসকদের উদ্দেশে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করতে হবে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়া অনুপ্রবেশকারীদেরও ওই কেন্দ্রগুলিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই হোল্ডিং সেন্টার থেকেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বিএসএফ। এরপর তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার।‌ কাদের বিরুদ্ধে ডিপোর্টের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০২৪-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এ রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে যাঁরা সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় পড়েন, তাঁদের বৈধ নাগরিক হিসেবে গণ‍্য করা হবে। যাঁরা ওই আইনের আওতায় পড়েন না, তাঁদের ডিপোর্ট করা হবে।

government of West Bengal orders construction of holding centers for infiltrators

আরও পড়ুন : ‘আমি থাকব..’, মমতার হয়েও সওয়াল করতে প্রস্তুত? মুখ খুললেন বিকাশ রঞ্জন

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। একদিকে সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তবে রাজ্য প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশ মেনেই গোটা প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।